আরও ৬৬ নেতাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত বিএনপির

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় আরও ৬৬ নেতাকে বহিষ্কার করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলটির দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে ৭৫ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ৬৬ নেতা দলীয় নির্দেশনা মানেননি। ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য দলের কেন্দ্র থেকে যোগাযোগ করার পরও তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। তাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কারের আগে দলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের কারণ দর্শানোর জন্য বলা হবে। এরই মধ্যে ৬১ জনকে কারণ দর্শানোর জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘গত ১৫ এপ্রিল বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিএনপির নেতা হিসেবে আপনি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্পূর্ণরূপে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও দলের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা।’

এর আগে প্রথম ধাপের ভোটে প্রার্থী থাকায় দল থেকে তৃণমূলের ৭৫ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে ৬৬ নেতাকে বহিষ্কার করা হলে দুই ধাপে এ সংখ্যা দাঁড়াবে ১৪১।

উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপেও বিএনপি নেতাদের অনেকে প্রার্থী হতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। ফলে উপজেলা নির্বাচন বর্জনের অবস্থানে থাকা দলটির বহিষ্কারের তালিকাও দীর্ঘ হতে পারে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করছেন, দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে কিছু নেতা বহিষ্কার হলেও তাতে দলের কোনো ক্ষতি হবে না।

বিএনপির দপ্তর সূত্র জানায়, দ্বিতীয় দফায় বিএনপির বহিষ্কারের তালিকায় থাকা ৬৬ জনের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন ২৯ জন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২০ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৭ জন প্রার্থী। আর যারা দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ছয়জন ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রার্থী রয়েছেন।

দলটির নেতারা ধারণা করছেন, উপজেলা নির্বাচন ঘিরে বহিষ্কারের এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে বিএনপি ৩০০ থেকে ৪০০ নেতাকে হারাতে পারে। তারা বলছেন, তবু দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় এই সংখ্যাকে গুরুত্ব না দিয়ে কঠোর অবস্থানেই থাকতে চায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

জানতে চাইলে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে যারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি, তাদের প্রথমে কারণ দর্শানো নোটিস ও পরে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, এবার প্রায় ৪৮০ উপজেলা পরিষদে চার ধাপে ভোট হবে। প্রথম ধাপে ভোট হবে ৮ মে। এরপর ২১ মে দ্বিতীয় ধাপে, ২৯ মে তৃতীয় ও ৫ জুন চতুর্থ ধাপের নির্বাচন হবে। ইতিমধ্যে সব ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।