নগরের আলকরণে স্ক্র্যাপের মালামাল বিক্রির নিয়ে পুরনো দ্বন্দ্বের জেরে দুই কিশোর গ্যাং গ্রুপের মধ্যে গেল দুই দিনে (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) সংঘর্ষ, দোকানপাট ও সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আলকরণ এলাকার কিশোর গ্যাং লিডার ডোম আসিফ এবং ফিরিঙ্গি বাজার এলাকার কিশোর গ্যাং নেতা আকাশ গ্রুপের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে নগরের ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লবের সহকারী মো. সালাউদ্দিন নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। খবর পেয়ে দুই দফায় নগরের কোতোয়ালি ও সদরঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
সংঘর্ষে কাউন্সিলরের সহকারী ছাড়াও আরও কয়েকজন আহত হলেও তাদের বিষয়ে তথ্য নেই পুলিশের কাছে। দোকানপাট ও গাড়ি ভাঙচুর হলেও পুলিশ বলছে–সংঘর্ষ নয়, দুই গ্রুপের মধ্যে ‘স্ক্র্যাপ’ বিক্রির দ্বন্দ্ব থেকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা সুত্র জানায়, গত ২ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলকরণ দুই নম্বর গলিতে, বুধবার বিকেলে এসব ঘটনা ঘটে। সূত্র জানায়, নগরের অভয়মিত্র ঘাট এলাকায় জাহাজ থেকে আনলোডের সময় অনেক স্ক্র্যাপ নদীর পানিতে পড়ে যায়। সেই স্ক্র্যাপ পানি থেকে তুলে বিক্রি করা হয় বিভিন্ন ভাঙারির দোকানে। স্থানীয় দুই/তিনটি সিন্ডিকেট এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।
মূলত, স্ক্র্যাপ বিক্রি নিয়ে আলকরণ ওয়ার্ডের ৩ নম্বর গলির অভির সাথে ২ নম্বর গলির আকাশের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। এর জেরে গত বুধবার বিকেলে অভির সাথে আকাশের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে অভির হয়ে কিশোর গ্যাং লিডার ডোম আসিফ অর্ধশতাধিক কিশোর নিয়ে বুধবার রাতে আলকরণ মসজিদ ও চক্রবর্তী কলোনি এলাকায় দোকানপাট ও একটি অটোরিকশা ভাঙচুর করে।
সবশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুনরায় আলকরণ এলাকায় আনসার গলির সামনের কয়েকটি দোকান ভাঙচুর চালায় ডোম আসিফ ও তার সহযোগিরা। খবর পেয়ে ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব এবং আলকরণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস সালাম মাসুম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় তাদের নিবৃত্ত করতে গেলে কাউন্সিলর হাসান মুরাদের সহকারী সালাউদ্দিনের ওপর হামলা চালায় আসিফের কিশোর গ্যাং সদস্যরা।
ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব বলেন, ‘ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় বহিরাগত সন্ত্রাসীদের অপতৎরতা থামাতে গিয়ে আমার সহকারী সালাউদ্দিন মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তিনি এখন চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। কিশোর সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসেছিলো। আমার সামনেই তারা সালাউদ্দিনের ওপর হামলা করে।’
সদরঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ ফেরদৌস জাহান বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটেছে কোতোয়ালী থানা এলাকায়। কিছু অংশ সদরঘাট থানার অধীনে হওয়ায় পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছিল।’
কোতোয়ালী থানার ওসি এস. এম. ওবায়েদুল হক বলেন, ‘সংঘর্ষ নয়, সেখানে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’