যুক্তরাষ্ট্রে ছাত্র বিক্ষোভে বিপর্যস্ত ক্যাম্পাস

গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে চলমান প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দমনে তৎপর দাঙ্গা পুলিশ ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলেসে (ইউসিএলএ) ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীদের তাঁবু শিবির গুঁড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশি অভিযানে বিপর্যস্ত হয়েছে নিউ ইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসও। বিশ্ববিদ্যায় দুটোর সব প্রবেশপথেই এখন অবস্থান নিয়েছেন পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা। রাস্তায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবারও দেশটির বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ধরপাকড় অব্যাহত ছিল। সিএনএন বলছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ২ হাজার ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে সহিংস পন্থার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

এদিকে বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁবু শিবির গেড়ে ফিলিস্তিনপন্থিদের বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। দেশটির শীর্ষ একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গতকাল শুক্রবার বিক্ষোভ করেছে শত শত বিক্ষোভকারী। গাজায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভে ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানানো হয়। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা এই বিক্ষোভ করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধান সব নগরীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীরা গত দুই সপ্তাহে তাঁবু শিবির গেড়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা গত সপ্তাহে প্রধান হলের বাইরে জড়ো হয়ে শিবির স্থাপন করেন। এ ছাড়া, মেলবোর্ন, ক্যানবেরা এবং অস্ট্রেলিয়ার অন্য শহরগুলোতে একই ধরনের শিবির স্থাপন করেছেন বিক্ষোভকারীরা।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ১৮ এপ্রিলের পর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে অর্ধশত গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২ হাজার ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে। তাদের মধ্যে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় শুধু কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলেসে (ইউসিএলএ) অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় তাদের ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ জানালে তা অমান্য করেন বিক্ষোভকারীরা। তখন অন্তত ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইউসিএলএর মতো অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভকারীরাও তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্র্তৃপক্ষের প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে বা গাজা যুদ্ধকে সমর্থনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইসরায়েলি ‘গণহত্যা থেকে বিচ্ছিন্ন’ থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে শিক্ষার্থীদের এমন ব্যাপক বিক্ষোভ এই শতকে আর দেখা যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইউসিএলএ ক্যাম্পাসে পুলিশের অভিযানের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করেছে; যেমনটা করেছে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আলজাজিরা। সরায়েলের বিভিন্ন টেলিভিশন নেটওয়ার্কও লস অ্যাঞ্জেলেসে চালানো অভিযানের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করে।

ইসরায়েল এই ছাত্র বিক্ষোভকে ইহুদিবিদ্বেষ বলে আখ্যায়িত করেছে। তবে ইসরায়েলের সমালোচকরা বলছেন, বিরোধীদের কণ্ঠরুদ্ধ করতেই দেশটির এমন অভিযোগ।

চলমান বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয় গত ১৭ এপ্রিল। তারা গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের অবসান দাবি করছেন।