জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে ‘শান্তির সংস্কৃতি’ সংক্রান্ত বাংলাদেশের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার ১১২টি দেশ এ প্রস্তাবটিতে কো-স্পন্সর করেছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত সাধারণ পরিষদের হলে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।
গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
চলতি বছর আলোচ্য প্রস্তাবটি একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কেননা এ বছর শান্তির সংস্কৃতির ঘোষণা ও এ-বিষয়ক কর্মসূচি ২৫তম বছরে পদার্পণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় ১৯৯৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে শান্তির
সংস্কৃতির ঘোষণা এবং এ-বিষয়ক কর্মসূচি গৃহীত হয়।
এরপর থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশ ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজল্যুশনটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করে আসছে, যা শান্তি ও অহিংসার সংস্কৃতি উন্নীত করতে আটটি বিশেষ ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে।
এবারের প্রস্তাবে শান্তির সংস্কৃতির ঘোষণা এবং এ-বিষয়ক কর্মসূচির ২৫তম বার্ষিকী যথাযথভাবে পালন ও উদযাপনের জন্য সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে দিনব্যাপী একটি উচ্চপর্যায়ের ফোরাম আহ্বান করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তাবে সাধারণ পরিষদের সদস্য রাষ্ট্র, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা, নাগরিক সমাজ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমসহ অন্যান্য অংশীজনকে যথাযথভাবে এ বার্ষিকী পালনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবটি উপস্থাপনের সময় রাষ্ট্রদূত মুহিত বিভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে শান্তির সংস্কৃতির অব্যাহত প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজ বিশ্বে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্ব ও মানবিক মর্যাদা অবজ্ঞার মুখোমুখি। এ ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও সহিংসতা থেকে উত্তরণে মানবমনে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার ভাব পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, সমতা ও সব মানুষের সমমর্যাদার চেতনা সমুন্নত করতে হবে। সর্বোপরি যুদ্ধের চেয়ে শান্তিকে অনেক বেশি লাভজনক করে তুলতে হবে।
যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞে বাংলাদেশের নিজস্ব অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মুহিত বলেন, ‘জাতিসংঘে শান্তির সংস্কৃতির ধারণা প্রবর্তনে বাংলাদেশের উদ্যোগটি আমাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত।’
প্রস্তাবটি বিবেচনার আগে এর ওপর সাধারণ পরিষদে একটি সাধারণ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বহুসংখ্যক সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি বক্তব্য দেন। তারা শান্তির সংস্কৃতির ঘোষণা এবং এ-বিষয়ক কর্মসূচি বাস্তবায়নে তাদের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বাসস