হাসপাতালে রোগী তিনগুণ চিকিৎসা দিতে হিমশিম

দেশ জুড়ে গত কয়েক দিন ধরে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। জামালপুর ও দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে হাসপাতালে রোগীর ভিড় বেড়েছে। ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, হিটস্ট্রোকসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। আক্রান্তদের বেশিরভাগই বয়স্ক ও শিশু। জামালপুর সদর হাসপাতালে শয্যার চেয়ে তিনগুণ রোগী ভর্তি আছেন। অন্যদিকে হিলিতেও শয্যার চেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। রোগীর চাপে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে জামালপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দেখা গেছে, মেডিসিন ওয়ার্ডের মেঝে-বারান্দায় চাদর ও পাটি পেতে বসে ও শুয়ে আছেন শতাধিক রোগী। গাদাগাদি করে রোগী ও স্বজনেরা বসে আছেন।

হাসপাতালের প্রশানিক কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে গত বৃহস্পতিবার ৬৫৬ রোগী ভর্তি ছিল। অতিরিক্ত রোগীরা বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেঝে ও বারান্দায় বিছানা করে সেবা নিচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে মেডিসিন ওয়ার্ডে। এখানে ৫০ শয্যার বিপরীতে ২৩৭ রোগী ভর্তি আছেন। এ ছাড়া শিশু ও স্কেনো ওয়ার্ডে ২৪ শয্যার বিপরীতে ১৩৫ রোগী সেবা নিচ্ছেন। বহির্বিভাগে দুপুর নাগাদ ১ হাজার ৩৯২ রোগী সেবা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ঠান্ডা, জ্বর, ডায়রিয়া ও গরমজনিত রোগীর সংখ্যা বেশি। বিভিন্ন পালায় ৪৮ চিকিৎসক ও ২০৪ নার্স রোগীদের সেবা দেন।

বিল্লাল হোসেনের বাবা ঠান্ডা, জ¦র ও শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছেন। গত বুধবার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু কোথাও জায়গা না পেয়ে হাসপাতালের সিঁড়ির কাছের একটি ছোট্ট জায়গায় বিছানা করে বাবাকে নিয়ে বসে আছেন। বিল্লাল বলেন, ‘বাবাকে নিয়ে হাসপাতালে এসে আমি নিজেই এখন অসুস্থ হয়ে পড়েছি। গরম, ওপরে ফ্যান নাই, দুর্গন্ধ আর মশার কামড়ে অবস্থা খারাপ। কোথাও সিট খালি নাই। কারেন্ট চলে গেলে অবস্থা আরও খারাপ হয়। এখানে কোনো জেনারেটর চলে না।’

দুপুরে মেডিসিন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, পা ফেলার জায়গা নেই। অন্য ওয়ার্ডগুলোতেও একই অবস্থা। যেখানেই একটু জায়গা, সেখানেই রোগী। ওয়ার্ডের ভেতরটা নোংরা। শৌচাগার থেকে দুর্গন্ধ আসছে।

মেডিসিন ওয়ার্ডের পুরুষ বিভাগের কয়েক জন নার্স জানান, শয্যা নিয়ে তো এখানে এক রকম যুদ্ধ চলে রোগীদের মধ্যে। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী হওয়ায় ভেতরে তীব্র গরম থাকে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, ‘শয্যার তুলনায় এই হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। গরমজনিত রোগ নিয়ে রোগীরা বেশি আসছেন। পাশের কয়েকটি জেলার রোগীও এখানে আসেন।’

এদিকে দিনাজপুরের হিলিতে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে প্রতিদিনই শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকছেন। বহির্বিভাগে আগের চেয়ে দ্বিগুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। পূর্বে যেখানে বহির্বিভাগে ২০০ এর মতো মানুষ চিকিৎসা নিতে আসত, বর্তমানে আসছে তিন ৪০০ রোগী।

সরেজমিনে উপজেলা কমপ্লেক্সে দেখা গেছে, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের লম্বা লাইন। এ ছাড়া ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা শয্যার চেয়ে বেশি হওয়ায় অনেকেই মেঝেতে আশ্রয় নিয়েছেন।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. প্রিতম মুজতাহিদ বলেন, স্বাভাবিক সময়ে যে রোগী হয় তার চেয়ে অনেক বেশি রোগী হাসপাতালে আসছে এই গরমের কারণে। বিশেষ করে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা অনেকটা বেড়েছে। যারা গরমজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য আমাদের পরামর্শ হচ্ছে আপনারা প্রচুর পরিমাণে পানি পান করবেন। ডায়রিয়া শুরু হওয়া মাত্র স্যালাইন খাওয়া শুরু করবেন।