বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের মানুষজন মুইনখালীর ভাঙা সেতুর ওপর দিয়ে চার বছর ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ব্রিজটি ভাঙা থাকায় স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভয়ে এটির ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। এ ছাড়া কেউ অসুস্থ হলে নৌকায় করে পার করতে হয় রোগীকে। কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্নভাবে ব্রিজটি মেরামতের দাবি করে এলেও কেউ এটির প্রতি নজর দেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
ব্রিজটি উপজেলার তুলাতলা নদীর সঙ্গে মিলিত দক্ষিণ সাদিশ খালের ওপর নির্মাণ করা হয় ১৯৯৭ সালে। বছর চারেক আগে এটি ভেঙে যায়। এরপর থেকে মানুষজন সেতুটির বিভিন্ন স্থানে তক্তার ওপর পেরেক মারা জোড়াতালি দিয়ে কোনোরকমে পারাপার চালু রাখার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের ভাষ্যমতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটলেও ব্যতিক্রম বাকেরগঞ্জের কলসকাঠী ইউনিয়নটি। তুলাতলি নদীতে ব্রিজ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে একমাত্র কলসকাঠিবাসী তার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর মধ্যে ইউনিয়নের ভাঙন কবলিত এলাকা দক্ষিণ সাদিশ মুইনখালী ব্রিজটি দিয়ে তিন গ্রামের মানুষের উপজেলা শহরের আসার একমাত্র ভরসা। সেটিও ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। যে কোনো মুহূর্তেই বড় দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন পথচারীরা। এ ছাড়া এই ব্রিজ দিয়ে গ্রামের জনসাধারণসহ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতি দিন কলসকাঠি বন্দরসহ উপজেলা শহরে যাতায়াত করেন। তবে, শিক্ষার্থীদের একটা অংশ ভয়ে সেতুতে উঠছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় মেম্বার এবং তরুণদের উদ্যোগে বেশ কয়েক বার কাঠ দিয়ে ব্রিজটি মেরামত করা হয়েছে। তাও বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রিজটি দিয়ে পারাপারের সময় বেশ কয়েক বার দুর্ঘটনাও ঘটেছে। অনেক শিশুরা ভয়ে স্কুলে যেতে চায় না এই ব্রিজটি দিয়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল হাওলাদার বলেন, দক্ষিণ সাদিশ মুইনখালী ব্রিজটি ভেঙে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছে। প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। এ ছাড়া ব্রিজটি দিয়ে যানবাহন নিয়ে চলাচল করা যায় না। কেউ অসুস্থ হলে তাকে নৌকায় করে পার করতে হয়। সরকারের কাছে দাবি জানাই এখানে নতুন করে যেন ব্রিজ তৈরি করে দেন।
কলসকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাদল হাওলাদার বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ফেসবুক আইডিতে ব্রিজটি নিয়ে পোস্ট করেছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরেই আসেনি ব্যাপারটা।’
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়সাল অয়াহিদ মুন্না জানান, ব্রিজটির খুব খারাপ অবস্থা। এটি অতিদ্রুত নতুনভাবে মেরামত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ব্রিজটি আমাদের নজরে আছে। আগামী জুলাই মাসের দিকে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে এ ব্রিজটির কাজ করা যায় কি না দেখছি।’