আগামী ৮ মে গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। এখানে পাঁচজন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চারজন আওয়ামী লীগের এবং একজন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও গাজীপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট রীনা পারভীন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হওয়ার আগে ২০১৪ সালেও তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে সে বছর শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ২০১৮ সালে দেওয়া রীনা পারভীনের হলফনামা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়নি। তবে রীনা পারভীনের ২০১৪ সালের হলফনামার সঙ্গে এবারের হলফনামার তুলনা করে দেখা গেছে, ১০ বছরে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। জমা টাকা বেড়েছে ১২ গুণ। অন্যদিকে ঠিকাদারি ব্যবসা করা তার স্বামীর সম্পদ বেড়েছে প্রায় ১৫ গুণ।
২০১৪ সালে উপজেলা নির্বাচনে হলফনামায় তিনি আয়ের একমাত্র খাত উল্লেখ করেছেন আইন পেশা। তখন তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ছিল ২৬ হাজার ৫০০ টাকা, স্বর্ণ ১২ তোলা ও ব্যাংকে জমা ৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ছিল ১ বিঘা কৃষিজমি ৩ লাখ টাকা, ৫৭ দশমিক ৪০ শতাংশ অকৃষি জমি ১৭ লাখ ৭৬ হাজার ৭৫০ টাকা। এ ছাড়া আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ঋণ ছিল ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অন্যদিকে স্বামীর নামে ছিল ৫০ হাজার, ব্যাংকে ৬ লাখ, সাড়ে ১২ লাখ টাকার একটি প্রিমিও গাড়ি ও দেড় লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাব। ১০ বছর পর এসে রীনা পারভীনের আইন পেশার সঙ্গে আয়ের খাত হিসেবে যোগ হয়েছে বাড়িভাড়া, সঞ্চয়পত্র, ডেইরি ফার্ম ও পোলট্রি ফার্ম। ২০২৪ সালের হলফনামায় রীনা পারভীন অস্থাবর সম্পদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন ৭০ হাজার, ব্যাংকে আছে ৪৯ লাখ ২০ হাজার ৩১৬, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ ৫০ লাখ, স্বর্ণ ১২ তোলা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১ লাখ ৭০ হাজার, আসবাব ১ লাখ ৫০ হাজার ও অন্যান্য ১৬ লাখ ১৮ হাজার ৫২৮ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে
অকৃষি জমি প্রায় ৬৯ শতাংশ, ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ৭৫০ টাকা এবং উত্তরায় আবাসিক ফ্ল্যাট ৩১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এ ছাড়া স্বামীর কাছ থেকে ঋণ ৪০ লাখ টাকা।
আর তার ঠিকাদার স্বামীর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৫ গুণ বেড়েছে। ২০২৪ সালের হলফনামায় স্বামীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২ লাখ, ব্যাংকে জমা ২ কোটি ৪১ লাখ ৫৭ হাজার ৬১, দুটি গাড়ি ৫১ লাখ ৬০ হাজার, ৫ তোলা স্বর্ণ ২৫ হাজার ও আসবাব ১৫ হাজার টাকা।