পাঁচ বছরে আয় বেড়ে ৫ গুণ করেছেন বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন এবারও নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। গত পাঁচ বছর চেয়ারম্যান থাকাকালে তার সম্পদ বেড়েছে প্রায় দেড়গুণ। তবে তার বার্ষিক আয় বেড়েছে প্রায় পাঁচগুণ। ২০১৯ সালে কৃষি খাত, বাড়িভাড়া, ব্যবসা, শিক্ষকতা ও অন্যান্য খাত বাবদ তার বার্ষিক আয় ছিল ৪৪ লাখ ৪১ হাজার ২২৪ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২০ লাখ ২৪ হাজার ৪৩০ টাকা। শুধু ব্যবসা খাতে তার আয় বেড়েছে নয়গুণ। পাঁচ বছর আগে ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ছিল ৩০ লাখ টাকা, এখন সেই আয় ২ কোটি ৭ লাখ ৪২ হাজার ৪১৭ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। নগদ অর্থ কমলেও বেড়েছে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট। পাঁচ বছর আগে তার সবমিলে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকার তিনটি বাড়ি ছিল। কিন্তু বর্তমানে তার প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ইসিতে জমা দেওয়া হলফনামা ও গত ২০১৯ সালের নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাঁচ বছর আগে তার স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে সম্পদ ছিল ২ কোটি ৮৯ লাখ ২৩ হাজার ৮৬৯ টাকা। সেটা প্রায় দেড়গুণ বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১৪ লাখ ৫১ হাজার ৬২ টাকা।

২০১৯ সালের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ছিল, নগদ ২২ লাখ ৯১ হাজার ১০৯ টাকা, ব্যাংকে জমা ৫১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩৫ টাকা, স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ছিল ১ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার ২৫০ টাকা। ৩৯ লাখ টাকার গাড়ি ও মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১ লাখ ও আসবাবপত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে ছিল, কৃষি জমি ২ লাখ ১০ হাজার টাকার। অকৃষি জমি ২৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। বাড়ি তিনটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ফ্ল্যাট বুকিং ৯ লাখ ১১ হাজার ৮৭৫ টাকা। এ ছাড়া ঋণ ছিল ৬৮ লাখ ২২ হাজার ৫০৩ টাকা।

২০২৪ সালে এসে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে, নগদ ৭ হাজার ৪০২ টাকা, ব্যাংকে জমা ১৩ লাখ ৫ হাজার ৩৮৯ টাকা, স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৯৪ লাখ ৭১ হাজার ৩১১ টাকা, যানবাহন ৩২ লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১ লাখ টাকা, আসবাবপত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও অন্যান্য ৯১ লাখ ৭ হাজার ৩৩৫ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষি জমি ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার, অকৃষি জমি ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫০ টাকা। বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ১ কোটি ৩৯ লাখ ৬১ হাজার ৮৭৫ টাকা। এ ছাড়া ব্যাংক ঋণ আছে ৬০ লাখ ১২ হাজার ৭২৩ টাকা।