ব্যাংক একীভূত হওয়া, লোডশেডিং এবং সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা (এমপি)। গতকাল রবিবার সংসদ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তে ব্যাংক একীভূত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে কাজ না করলেও বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এখন আইএমএফ যখন বলেছে তখন পদক্ষেপ নিচ্ছে। সবল ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল ব্যাংককে একীভূত না করে দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করার প্রস্তাব দেন তিনি।
এর আগে অনির্ধারিত আলোচনায় লোডশেডিং ও সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধী দলের চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, এখন গ্রামে-গঞ্জে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোথাও ১২ ঘণ্টা, কোথাও ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। আমার এলাকায় ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। সরকার বলছে, ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আছে। তাহলে সেই বিদ্যুৎ গেল কোথায়?
এ নিয়ে সরকারি দলের সদস্যদের কেউ কেউ আপত্তি করলে চুন্নু বলেন, লোডশেডিং হয় না গ্রামে? চ্যালেঞ্জ করলাম। আমার এলাকার মানুষ আমাকে বলেছে, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে দাওয়াত দিতে, আমার এলাকায় একটা দিন থাকতে, লোডশেডিং হয় কি না তা দেখার জন্য।
মুজিবুল হক বলেন, ভাড়ায় যেসব বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র আছে, তাদের ৪১ শতাংশ সক্ষমতা থাকার পরও বসে আছে। ২২-২৩ আর্থিক বছরে বসে থাকার পরও ভাড়া বাবদ তাদের ২৬ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর আগে সংসদে বলেছিলাম, আমার এলাকায় বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আমাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, আমি আজ চ্যালেঞ্জ চাই না। আমি চাই, তিনি সশরীরে আমার এলাকায় যাবেন দুই-চার দিনের মধ্যে। দেখে আসবেন কয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে।
মুজিবুল হক বলেন, বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ করুন। বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছেন। মন্ত্রী একটি সুন্দর কথা বলেন, সমন্বয়। সমন্বয়ের মানে মূল্যবৃদ্ধি। এ সমন্বয় আগামী তিন বছর বারবার করবেন। ভর্তুকি তুলে নিলে বিদ্যুতের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাবে দুই-তিন বছর পর। মানুষ কিনতে পারবে কি না, আমি জানি না। আমি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে বলব, শুধু দাম না বাড়িয়ে এমন কিছু পদক্ষেপ নিন, যাতে জনগণের ওপর চাপ না পড়ে, একটি সহনীয় অবস্থায় আপনারা সরকারেও থাকতে পারেন, আর বিদ্যুৎও যাতে পাওয়া যায়।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে চুন্নু বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় ৩১৫ জন মারা গেছেন ঈদের আগে ও পরে। প্রতিদিন এখন ১৪ জন মারা যান। বছরে ৫ হাজারের মতো লোক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এটি সরকারের সংস্থার হিসাব। ১৭ এপ্রিল ঝালকাঠিতে সিমেন্টবাহী ট্রাকের চাপায় ১৪ জন মারা যান। সেই ট্রাকের চালকের ভারী যানবাহন চালানোর কোনো লাইসেন্সই ছিল না। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ২২ এপ্রিল যে বাসের ধাক্কায় একজন শিক্ষার্থী মারা যান, সেটির ফিটনেসই ছিল না। ৪৩ বছরের পুরনো গাড়ি। এ গাড়ি তো দুর্ঘটনা ঘটাবেই। সড়কে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা হয় পুরনো, ফিটনেসবিহীন গাড়িতে।