আ.লীগের হীরক জয়ন্তীতে দাওয়াত পাবে বিএনপি

আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৫ বছর পূর্তি (হীরকজয়ন্তী) অনুষ্ঠানে বিএনপিকে দাওয়াত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কিন্তু আমাদের গত জাতীয় সম্মেলনসহ সমস্ত অনুষ্ঠানে বিএনপিকে দাওয়াত দিয়েছি। আমাদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আমন্ত্রণপত্র বিএনপিও পাবে। এটা আমি বলতে পারি। অন্যান্য রাজনৈতিক দলও পাবে।’

গতকাল সোমবার বিকেলে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমন্ডলীর এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

উপজেলা নির্বাচনে অনেক সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে আত্মীয় প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের যারাই দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করবে তাদের সময়মতো কোনো না কোনোভাবে শাস্তি পেতে হবে।’

মন্ত্রী-এমপির স্বজনদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে সাংগঠনিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন প্রশ্নে জবাবে কাদের বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের আর সক্রিয়ভাবে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সারা দিন স্বাধীনতার কথা বললেও গণতন্ত্র ধ্বংস করছে বলে বিএনপি নেতা মইন খানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ওবায়দুল কাদের বলেন, ’৭৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রহসনের নির্বাচন, ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার, হ্যাঁ-না ভোটে ১১৪ শতাংশ হ্যাঁ ভোট এসব কিন্তু তাদেরই সৃষ্টি। নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অধীনে ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা নিজের ক্ষমতাকে ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করেছেন।’

সম্পাদকমন্ডলীর সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আলোচনা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সাংগঠনিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেছি। এর মধ্যে আগামী ১৭ মে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সেদিন সকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ, সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো ফুলেল শুভেচ্ছা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। থানা, জেলা, উপজেলা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করা হবে। বিশেষ প্রার্থনা করা হবে বাইতুল মোকাররম, চার্চ ও জাতীয় মন্দিরে। বিকেলে আলোচনা সভা হবে ঢাকা জেলা মিলনায়তনে।

আওয়ামী লীগের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৬ মে অস্বচ্ছল ও গরিব মানুষদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করা হবে। তবে দিবসটিতে দেশব্যাপী আলোকসজ্জা করা হবে না। ব্যানার পোস্টার, বিলবোর্ড করা হবে। প্রেস ক্লাব, সোনারগাঁও, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আলোকসজ্জা করা হবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, হীরক জয়ন্তী আমরা ব্যাপকভাবে পালন করার চিন্তা-ভাবনা করছি। এটা থানা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আলোচনা সভা করা হবে ২৩ জুন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীসহ দলের নেতারা, ইন্টেলেকচুয়াল মানুষদের আমন্ত্রণ জানাব। আলোচনা সভার আগে কালচারাল অনুষ্ঠান হবে। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্যভাবে পালন করবে দলটি।