রাজশাহীতে সাড়ে ৮ কেজি হেরোইনসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও র্যাবের আলাদা দুই অভিযানে এসব হেরোইন জব্দ করা হয়। গতকাল সোমবার (৬ মে) রাতে এই দুই সংস্থা আলাদাভাবে মাদক বিরোধী এই অভিযান চালায়। এসব সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জব্দকৃত হেরোইনের দাম প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা।
পাথরের ট্রাকে পাচার হচ্ছিলো পাঁচ কেজি হেরোইন
রাজশাহীতে ট্রাকে পাথরের আড়ালে হেরোইন পাচারের সময় এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এসময় ওই ট্রাক থেকে পাঁচ কেজি ১০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ মে) দুপুরে রাজশাহী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা-আমচত্বর সড়কে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার জামাল (২০) চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট মিলিক বাগানবাড়ীর তেনু হোসেনের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে ফজলুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি টিম সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা-আমচত্বর সড়কে অবস্থান নেয়। এসময় সন্দেহজনক ট্রাক থামিয়ে একটি ব্যাগের মধ্যে পুরাতন কাপড় দিয়ে মোড়ানো ৫১টি প্যাকেটে মোট ৫ কেজি ১০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও ১৫ হাজার ১১০ কেজি পাথরসহ ট্রাকটি জব্দ করা হয়।
র্যাবের অভিযানে সাড়ে তিন কেজি হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ২
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তিন কেজি ৪০০ গ্রাম হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৫। আজ মঙ্গলবার (৭ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার দিয়ার মানিকচক রাবনপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন দুপুরে র্যাব-৫ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো—রাবনপাড়া গ্রামের সোলায়মান (২০) ও রুহুল আমিন (৪০)।
র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৫ মাদক ব্যবসায়ী সোলায়মানের বসতবাড়ির চতুরদিক ঘেরাও কালে ২ ব্যক্তি বাড়ির গেট খুলে পালানোর সময় ১ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অপরজন দৌড়ে পালানোর সময় আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোলায়মানের রান্নাঘর সংলগ্ন ঘরে গোবরের লাকড়ির মধ্যে লুকায়িত অবস্থায় ৩ কেজি ৪০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামিরা ভারতীয় সীমান্তবর্তী হওয়ার সুবাদে অপর পলাতক আসামিসহ যোগসাজসে দীর্ঘদিন ধরে হেরোইন সংগ্রহ করে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল।