৩৪টি দেশের ডাকটিকেটে রবীন্দ্রনাথ

কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে যদি তার দেশ ডাকটিকেট প্রকাশ করে তাহলে বুঝতে হবে সেই ব্যক্তি সে দেশের খুবই গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। এ কথাটির মধ্য দিয়ে অনুমান করা যায় আমাদের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সারা দুনিয়ার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন। শুধু ভারত আর বাংলাদেশই নয় রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করে পৃথিবীর ৩৪টি দেশ। ডাকটিকেট ছাড়াও তাকে নিয়ে প্রকাশিত হয় ডাকটিকিটের শিটলেট, স্যুভেনির শিট, মিনিয়েচার শিট, উদ্বোধনী খাম, বিশেষ খাম, পোস্টকার্ড, অ্যারোগ্রাম ও বিশেষ সিলমোহর। একজন ব্যক্তিকে এমন ঘটনা দুনিয়ায় বিরল। রবীন্দ্রনাথ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি মানুষের মনের ভেতরের কথাগুলো ঈশ্বরের মতো বলে গেছেন। ফলে আমরা আমাদের সুখ কিংবা দুঃখবোধের সময় বরীন্দ্রনাথের কাছে আশ্রয় চাই। এরকম একজন মানুষকে নিয়ে দুনিয়া হইচই করবে, ডাকটিকেট প্রকাশ করবে; সম্মান জানাবে- এটা তো স্বাভাবিক ঘটনা।

রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে প্রথম ডাকটিকেট প্রকাশ করে ভারত। ভারতীয় ডাকবিভাগ ও টেলিগ্রাফের যৌথ প্রয়াসে ১৯৫২ সালের ১ অক্টোবর ডাকটিকিটটি প্রকাশিত হয়েছিল। মূল্য ছিল বারো আনা। এরপর ১৯৬১ সালে কবির জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সত্যজিৎ রায়ের আঁকা রবি ঠাকুরের প্রতিকৃতি দিয়ে ৭ মে ভারত একটি স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করে। ওই বছর ৮ মে রাশিয়া, ১৩ মে আর্জেন্টিনা, ২৮ জুলাই ব্রাজিল ও রুমানিয়া একটি করে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। বিশ্বভারতীয় স্বর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১৯৭১ সালের ২৪ ডিসেম্বর কুড়ি পয়সা মূল্যের একটি ডাকটিকিট ইস্যু করা হয়। সেটিতে রবীন্দ্রনাথ ও বিশ্বভারতীর মূল ক্যাম্পাসের ছবি ছাপা হয়। ১৯৭৮ সালে রবীন্দ্রনাথের চিত্রকলা নিয়েও ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। ডাকঘর গল্প নিয়েও ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়।

১৯৯১ সালের ৭ আগস্ট রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে, যার মূল্যমান ছিল ৪ টাকা। সেই ডাকটিকিটে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি ও শিলাইদহ কুঠিবাড়ির ছবি স্থান পায়। সর্বশেষ ২০১১ সালের ৬ মে সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যমানের ৪টি ডাকটিকিট ও ১০০ টাকা মূল্যমানের একটি স্যুভেনির শিট প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ থেকে। ডাকটিকিটে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়ি, শাহজাদপুর কাচারিবাড়ি, দক্ষিণডিহি শ্বশুরবাড়ি, নওগাঁর পতিসর কাচারিবাড়ির ছবি স্থান পায়। এ ছাড়া স্যুভেনির শিটে ডাকটিকিটের ছবিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত স্থান পায়।

বাংলাদেশ ও ভারত ছাড়াও রাশিয়া, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, রুমানিয়া, সুইডেন, বুলগেরিয়া, ভিয়েতনাম, ভেনেজুয়েলা, কিরগিস্তান, টুভালু, উরুগুয়ে, শ্রীলংকা, ভূটান, মোজাম্বিক, হাঙ্গেরি, স্কটল্যান্ড, টোগোলাইজ, গিনি, গিনি বিসাউ, নাইজার, সিয়োরা লিওন, চীন, ব্রিটেন, মঙ্গোলিয়া, প্যারাগুয়ে, সেন্ট্রাল আফ্রিকা ও কমরো দ্বীপপুঞ্জসহ আরো বেশ কয়েটি দেশ। ১৯৭৩ সালে সুইডেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ওপর একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। ১৯৭৭ সালে কমরো দ্বীপপুঞ্জ রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে একটি স্মারক ডাকটিকিট, সেন্ট্রাল আফ্রিকা একটি স্যুভেনির শিট ও প্যারাগুয়ে রবীন্দ্রনাথের নামসংবলিত একটি স্যুভেনির শিট প্রকাশ করে। 

১৯৮২ সালের ৭ মে ভিয়েতনাম ও ৩০ ডিসেম্বর বুলগেরিয়া রবীন্দ্রনাথের ওপর একটি করে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে। ১৯৯২ সালের ৩ জুলাই মঙ্গোলিয়া তাকে নিয়ে একটি স্যুভেনির শিট প্রকাশ করে। ১৯৯৭ সালের ২ অক্টোবর ভেনেজুয়েলা ভারতের ৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে ১০টি ডাকটিকিটের একটি শিটলেট প্রকাশ করে। শিটলেটে রবীন্দ্রনাথের ছবি স্থান পায়। ১৯৯৯ সালে কিরগিজস্তান রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর ছবিসংবলিত একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করে। ২০০৯ সালে গিনি বিসাউ রবীন্দ্রনাথের ওপর ৪টি ডাকটিকিট ও একটি স্যুভেনির শিট প্রকাশ করে। একই বছর চীন ১৯১টি পোস্টকার্ড প্রকাশ করে। ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ব্রিটেন একটি শিটলেট প্রকাশ করে। একই বছর থাইল্যান্ড একটি শিটলেট এবং গিনি বিসাউ একটি শিটলেট প্রকাশ করে।

২০১১ সালে রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ, ভারত, টুভালু, উরুগুয়ে, শ্রীলঙ্কা, মোজাম্বিক, টোগোলাইজ, গিনি বিসাউ, গিনি ও ভুটান স্মারক ডাকটিকিট, শিটলেট, স্যুভেনির শিট প্রকাশ করে। এ ছাড়া চীন ২১টি পোস্টকার্ড প্রকাশ করে। ২০১৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সিয়েরা লিওন রবীন্দ্রনাথের ওপর ২টি স্যুভেনির শিট, ১৫ আগস্ট নাইজার একটি স্যুভেনির শিট প্রকাশ করে। ২০১৯ সালে স্কটল্যান্ড একটি শিটলেট ও হাঙ্গেরি একটি স্যুভেনির শিট প্রকাশ করে।