স্কুল পালালেই রবীন্দ্রনাথ হওয়া যায় না! কী ছিল রবীন্দ্রনাথের প্রতিদিনের রুটিন?

আপডেট : ০৮ মে ২০২৪, ০৭:৩৬ পিএম

রবীন্দ্রনাথ বাঙালির জীবনে মিশে আছে ওতপ্রোতভাবে। কবিতা, গল্প, গান, প্রবন্ধ সব শাখায় তার অতুলনীয় অবদান পরবর্তী সাহিত্যসাধকদের বিস্ময় জাগায়। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এমন বিস্ময় জাগানিয়া প্রতিভা রবীন্দ্রনাথের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তিনি কখনই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন পড়েননি। শৈশবে রবীন্দ্রনাথ কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি, নর্ম্যাল স্কুল, বেঙ্গল অ্যাকাডেমি এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে কিছুদিন করে পড়াশোনা করেছেন। স্কুলের প্রচলিত শিক্ষার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় তার কপালে জুটেছিল স্কুল পালানো ছেলের দুর্নাম। আর সেজন্যই এখনও কোনো শিক্ষার্থী স্কুল পালালেই তিরস্কার শুনতে হয়, ‘স্কুল পালালেই রবীন্দ্রনাথ হওয়া যায় না’। 

এর একটি অর্থ হলো, শুধু স্কুল পালিয়েই রবীন্দ্রনাথ হওয়া যায় না। তবে রবীন্দ্রনাথ হওয়ার জন্য  স্কুল পালানোর সঙ্গে সঙ্গে আর কী করতে হয়? 

স্কুলে রবীন্দ্রনাথের মন বসত না বলে তার জন্য গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যখন রবীন্দ্রনাথ স্কুলে যেতেন তখনও তার প্রতিদিনের রুটিনে যে বিভিন্ন বিষয় শেখার ব্যবস্থা হয়েছিল তা এখনকার দিনে ভাবা যায় না।

রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং তার আত্মজীবনী ‘ছেলেবেলা’তে উল্লেখ করেছেন শৈশবের দিনলিপি। শীত হোক বা গরম, ভোরে উঠে রবীন্দ্রনাথকে যেতে হবে কুস্তিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে। কুস্তির তালিম দিতেন ‘কানা পালোয়ান’। স্কুতি শিখে ফিরতেই বসতে হতো তাকে মানুষের হাড় চেনার ক্লাসে। একজন মেডিকেল কলেজের ছাত্র পড়াতেন। সাতটার সময় আসতেন নীলকমল মাস্টার। তার কাছে রবীন্দ্রনাথ পড়তেন গণিতের পাটিগণিত, বীজগণিত, রেখাগণিত। সাহিত্যে ‘সীতার বনবাস’ থেকে ‘মেঘনাদবধ’। পড়তে হতো প্রাকৃত-বিজ্ঞান। বিজ্ঞান পড়াতে মাঝে মাঝে আসতেন সীতানাথ দত্ত। মুগ্ধবোধ পড়াতে এসেছিলেন হেরম্ব তর্করত্ন। এই করে স্কুলের সময় হয়ে যেত। যেতে হতো স্কুলে। স্কুল চলত দশটা থেকে চারটা। সাড়ে চারটায় বাড়ি ফিরে জিমনাস্টিক শিখতেন জিমনাস্টের প্রশিক্ষকের কাছে। 

এরপর আসতেন ছবি আঁকার শিক্ষক। ছবি আঁকা শিখতে শিখতে সন্ধ্যে হয়ে আসতো। আসতেন অঘোর মাস্টার। চলত নয়টা পর্যন্ত। নয়টায় ঘুম।

এই ছিল রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলার রুটিন। রবীন্দ্রনাথ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কখনও বেশিদিন গ্রহণ করেননি বটে কিন্তু বাড়িতে তার জন্য যে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল তা মোটেও সহজ ছিল না। তার শৈশবের প্রতিদিনের রুটিনই তার প্রমাণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত