এনবিআর এবং কাস্টমস প্রতিনিয়ত পোশাক শিল্পকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) হল-৪ এ আয়োজিত ১৬তম বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন আমরা এ অহেতুক হয়রানি থেকে মুক্তি চাই।
তিনি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের উদ্দেশে বলেন, আমাদের শিল্পের কোর মেটেরিয়াল তুলা, যেটা বাংলাদেশে নেই। তারপরেও স্পিনিং মিলগুলো গড়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আমাদের সহযোগিতা না করে এনবিআর এবং কাস্টমস প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত করছে। আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে এটা আপনাকে জানানো আমার দায়িত্ব।
তিনি বলেন, আমরা এই অহেতুক হয়রানি থেকে মুক্তি চাই। আমরা যদি মুক্তি পাই তাহলে এই ইন্ডাস্ট্রিকে আমরা আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। বিভিন্নভাবে আমরা চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করতে গেলে বাধার সম্মুখীন হই। শুধু যে গার্মেন্ট শিল্প বাধাগ্রস্ত হয় তা কিন্তু নয়। আমদানি-রপ্তানি যা-ই করি না কেন এনবিআরের অত্যাচারে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমি আপনার কাছে এটার একটা সুরাহা চাই। আশা করি, আগামী কেবিনেট মিটিংয়ে এগুলো আপনি তুলে ধরবেন।
বিজিএমইএর সাবেক এ সভাপতি বলেন, এই দেশের উন্নয়নে আমরা সফল অংশীদার। গার্মেন্টস শিল্পে ১২ হাজার ডলার থেকে শুরু করে গত বছর আমরা ৪৭ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করেছি। ভবিষ্যতে আমরা এটি ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করা টার্গেট করেছি যদি আমরা সরকারের কাছ থেকে নীতিগত সহায়তাগুলো পাই। আমাদের এখানে ৪০ লাখ লোক কাজ করে। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এবং উদ্যোক্তাদের পরিশ্রমে ইন্ডাস্ট্রি আজ এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে।
এ সময় জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বের ডেনিম মেলাগুলোর মধ্যে প্রশংসনীয় আয়োজন এটি। এবারের ডেনিম এক্সপোতে ১৩টি দেশ থেকে ৬০টির বেশি কোম্পানি অংশগ্রহণ করেছে। যা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
বস্ত্রমন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত পোশাক ক্রেতাদের আমি অনুরোধ করব, পোশাক প্রস্তুতকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে ডেসটিনেশন হিসেবে নেবেন। পোশাকের যথাযথ মূল্য আপনারা দেবেন। আফ্রিকার কোনো নন কমপ্লায়েন দেশের পোশাকের তুলনায় এদেশে পোশাকের মূল্য একটু বেশি হবে, হওয়াটাই স্বাভাবিক।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইরমা ভ্যান ডুরেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট এস.এম. মান্নান কচি, এইচএন্ডএমের বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইথিওপিয়ার আঞ্চলিক প্রধান জিয়াউর রহমান প্রমুখ।
বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইরমা ভন দুরিন বলেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই অর্জনে পোশাক শিল্পের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পোশাক খাতের উন্নয়নে আগামী বছরগুলোতে আমাদের সর্বত্র সাসটেইনিবিলিটি এবং সার্কুলার চর্চার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব ও মনোনিবেশ করতে হবে।’
বিজিএমইএর সভাপতি এস. এম. মান্নান (কচি) বলেন, ‘আমরা এখন পোশাক শিল্পে অটোমেশনকে অন্তর্ভুক্ত করছি এবং বিশ্ববাজারে আমাদের শেয়ার বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা ব্যবসাকে টেকসই করার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি মূল্য সংযোজন করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী।’
বিজিএমইএর সহ-সভাপতি এবং টিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ হিল রাকিব বলেন, ‘ডেনিম এক্সপো সবসময় পণ্য, উপকরণ এবং সর্বোপরি শিল্পের কী চাহিদা সেটি ভালোভাবে অনুধাবন করে থাকে। আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতায় সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা শিল্পে টেকসই অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হব।’
এইচএন্ডএমের আঞ্চলিক প্রধান (বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইথিওপিয়া) জিয়াউর রহমান বলেন, ‘সার্কুলারিটি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে আমাদের সত্যিই অনেক কাজ করতে হবে। এখানে অনেক সুযোগ রয়েছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বচ্ছতা। আমরা যদি এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে চাই তবে আমাদের দক্ষতার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উদ্ভাবন এবং সাসটেইনিবিলিটির দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।’
বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পেছনে একটি অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো শিল্পের প্রসার ও উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।’
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক ডেনিম প্রদর্শনীগুলোর একটি ‘বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো’, যার অন্যতম লক্ষ্য বাংলাদেশের ডেনিম শিল্পের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে বিশ্বের কাছে তুলা ধরা ও ডেনিম শিল্পের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করা। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, উদ্ভাবন এবং ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে এ শিল্পকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার প্রয়াসে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপো’ এর ১৬তম আসর।
৬ ও ৭ মে ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরাতে অনুষ্ঠিত দুদিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজক বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ ১১টি দেশের ৬০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান ডেনিম পণ্য প্রদর্শন করেছে।