চোখের অন্ধত্বজনিত গ্লুকোমা রোগের ঝুঁকিতে ১০% মানুষ

দেশে গত ২০ বছরে অন্ধত্বজনিত গ্লুকোমা রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে বলে বাংলাদেশ গ্লুকোমা সোসাইটির এক জরিপে উঠে এসেছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১০ জন ব্যক্তির গ্লুকোমা রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি রয়েছে। এই রোগে পুরুষের তুলনায় নারীরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। আর দেশের মধ্যে ঢাকায় এই রোগীর হার বেশি।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই জরিপের তথ্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ গ্লুকোমা সোসাইটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. শেখ এম এ মান্নাফ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জরিপে মোট ১২ হাজার মানুষ অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৯৫৩ জন এবং নারী ৬ হাজার ৪৭ জন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শহরের মানুষ ৩ হাজার ৭৯০ জন ও গ্রামের ৯ হাজার ২১০ জন। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৮৬ জনের চোখে গ্লুকোমা শনাক্ত হয়েছে, যা মোট অংশগ্রহণকারীর ৩ দশমিক ২ শতাংশ।

জরিপে বলা হয়, গ্লুকোমা শনাক্ত ৩৮৬ জনের মধ্যে ৩০৩ জনের প্রাইমারি ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা, যা মোট গ্লুকোমা রোগীর ৭৮ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রাইমারি ক্লোজার গ্লুকোমা পাওয়া গেছে ৬২ জনের মধ্যে, যা ১৬ দশমিক ২ শতাংশ। বাকি ২১ জন বা ৫ দশমিক ৬ শতাংশের সেকেন্ডারি গ্লুকোমা পাওয়া গেছে।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. শেখ এম এ মান্নাফ বলেন, এর আগে প্রথম সার্ভে হয়েছিল ২০০২ সালে। সেখানে গ্লুকোমা আক্রান্ত রোগী ছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২২ সালের সার্ভেতে গ্লুকোমা রোগী পেয়েছি ৩ দশমিক ২ শতাংশ। এমনকি ১০ শতাংশ মানুষ পেয়েছি যারা গ্লুকোমা ঝুঁকিতে আছেন।

এই চিকিৎসক বলেন, জরিপে ঢাকায় বেশি রোগী পেয়েছি। আবার লিঙ্গ বিবেচনায় নারীদের মধ্যে রোগটি বেশি পাওয়া গেছে। এমনকি বরিশালের পুরুষের মধ্যে কম এবং ময়মনসিংহের পুরুষদের মধ্যে রোগটি বেশি পেয়েছি। তবে নারীদের ক্ষেত্রে বরিশালে বেশি ও ময়মনসিংহে কম রোগী। সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. জাকিয়া সুলতানা শাহিদ বলেন, দেশে এই মুহূর্তে গ্লুকোমা রোগীর সংখ্যা ১৯ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ রোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৯০ জন এবং নারী ৭ লাখ ১৩ হাজার ৩৪০ জন।