আতশিকাচের নিচে অধিনায়কও

বুধবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাকি দুটো ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। অনুমিতভাবেই আইপিএল অধ্যায় পরবর্তী বিশ্রাম শেষে মোস্তাফিজুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে ঘরোয়া লিগ খেলে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সাকিব আল হাসান দলে ফিরেছেন। অতিথি হয়ে চট্টগ্রামে দলের সঙ্গে থাকা পারভেজ হোসেন ইমন ও আফিফ হোসেন বাদ পড়েছেন কোনো ম্যাচ না খেলেই, বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে শরিফুল ইসলামকে। ক্রমাগত ব্যর্থতার পরও লিটন দাসকে উপেক্ষা করেননি নির্বাচকরা। এত কিছুর আড়ালে খানিকটা চাপা পড়ে যাচ্ছে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে রান খরাটাও। ২ ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জয়ের কৃতিত্বের চেয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও শান্তর রান না পাওয়াটা মোটেও কোনো সুখবর নয়।

২১, ১৬ ও ৬; জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ৩ ম্যাচে শান্তর রান। প্রথম ম্যাচে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ, লং অনে ক্যাচ এবং সিকান্দার রাজার অফস্পিনে বোল্ড; এই হচ্ছে আউট হওয়ার ধরন। প্রথম দুটো ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দলীয় সংগ্রহ কম থাকায় ম্যাচে খুব একটা প্রভাব পড়েনি। তবে সবশেষ ম্যাচে আগে ব্যাটিং নিয়েও বড় সংগ্রহের সুযোগ হাতছাড়ায় শান্তর দায় আছে। লিটন দাসের অমন আত্মাহুতির পর ঠিক ৬ বলের মাথায় শান্ত অফস্পিন খেলতে গেছেন পা না নড়িয়ে, ব্যাট আর বলের মাঝে বিশাল ফাঁক রেখে। শান্তর ব্যাটে বড় ইনিংস নেই লম্বা সময় ধরেই। বিশ্বকাপের পর যখন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হয়ে নিউজিল্যান্ডে গেছেন, সেখানে দুই ইনিংসে করেছেন ১৯ এবং ১৭ রান। দেশে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হাফসেঞ্চুরি করে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন, সেটাই হচ্ছে গত ১ বছরে শান্তর টি-টোয়েন্টিতে একমাত্র হাফসেঞ্চুরি বা বলা যায় বড় ইনিংস। ১৪ মার্চ ২০২৩ তারিখে মিরপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ৪৭*, এরপর সিলেটে ২০২৪ সালের ৬ মার্চ ৫৩*। মাঝে ৬ ইনিংসে সর্বোচ্চ ছিল ১৯ আর সিলেটে হাফসেঞ্চুরির পর ৪ ইনিংসে সর্বোচ্চ ২১।

দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর বিপিএলেও শান্ত ভালো করেননি সবশেষ মৌসুমে। ঢাকা লিগে অবশ্য জাতীয় দলের ম্যাচের মাঝে যতটা সুযোগ পেয়েছেন ভালোই করেছেন, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে টেস্ট সিরিজের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে তিন ইনিংসে দুটো সেঞ্চুরি। কিন্তু আবাহনীর জার্সি থেকে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে উঠতেই ব্যাটে রানখরা।

শান্তর ব্যাটিংয়ের ধরনটা অবশ্য ঠিক টি-টোয়েন্টি সুলভ নয়, অন্তত ২০২৪ সালে এসে ওয়ান-ডাউন ব্যাটসম্যান ১১১ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করবেন এটা মেনে নেওয়াটা কষ্টকর। তবুও গত আসরে শান্ত বাংলাদেশের হয়ে দুটো হাফসেঞ্চুরি করে দলের মুখরক্ষা করেছেন আর নিজের ক্যারিয়ারটাও বাঁচিয়েছেন। পেয়েছেন অধিনায়কত্বও। তবে নেতৃত্বের চাপ খানিকটা ম্লান করে দিয়েছে কি না তাকে সেটাই প্রশ্ন। সেই সঙ্গে শান্ত কি অধিনায়ক হিসেবে দলে ‘অটো চয়েস’ কি না সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। শান্তর ব্যাপারে ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিমের পর্যবেক্ষণ, ‘শান্ত শুরুতে একটু সময় নিতে অভ্যস্ত। হঠাৎ করে এই অভ্যস্ততা থেকে বের হতে চাওয়া ওর জন্য ভালো ফল বয়ে নাও আনতে পারে। একটা পর্যায়ে গিয়ে স্ট্রাইক রেটের ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া ওর জন্য হয়তো ঠিক হবে।’ শান্তর ব্যাটে রানখরা চলছে, তবে এই মুহূর্তে কোনো পরিবর্তন আনাটাও ঠিক হবে না বলেই মনে করেন বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা, ‘বাংলাদেশের হয়ে তাকেই ভালো খেলতে হবে। এই মুহূর্তে পরিবর্তন আনাটা ঠিক হবে না (নেতৃত্বে), উচিতও না।’

মিরপুরের চেনা উইকেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাকি দুটো ম্যাচে শান্ত রান করলে এই দুশ্চিন্তা খানিকটা ঘুচবে। তা না হলে চেক ইন লাগেজের সঙ্গে অধিনায়কের ফর্ম নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তাও বহন করতে হবে।