লাল-সবুজের ফুটবলে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো ইউরোপের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ইতালির সীমানায় ঘেরা ছোট্ট দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে এই প্রীতিম্যাচটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে বাড়তি উন্মাদনা কাজ করছে। নতুন কোচ থমাস ডুলির প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট এবং লেস্টার সিটি তারকা হামজা চৌধুরীর উপস্থিতিতে দল এখন দারুণ উজ্জীবিত।
আজ শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় সান মারিনো স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ফিফা র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৩০ ধাপ পিছিয়ে তলানিতে অবস্থান করছে সান মারিনো। তবে র্যাংকিং দিয়ে তাদের শক্তির বিচার করলে বড় ভুল হবে। ইউরোপিয়ান নেশনস লিগ এবং বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে নিয়মিত পরাশক্তিদের সঙ্গে খেলার কারণেই তাদের এই নাজুক অবস্থান।
এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য অনেকটা ‘ডাবল এজড সোর্ড’ বা দ্বিমুখী তলোয়ারের মতো। জিতলে র্যাংকিংয়ে খুব একটা ফায়দা হবে না, কিন্তু না জিততে পারলে পয়েন্ট হারানোর বড় ঝুঁকি রয়েছে। সান মারিনো তাদের আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসে খেলা ২২৩ ম্যাচের মধ্যে জিতেছে মাত্র তিনটিতে। মজার ব্যাপার হলো তাদের এই তিনটি জয়ই এসেছে ইউরোপের আরেক দুর্বল দল লিশটেনস্টাইনের বিপক্ষে। এর মধ্যে দুটি জয়ই এসেছে ২০২৪ সালে। বাংলাদেশ দলের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য থাকবে কোনোভাবেই যেন সান মারিনোর বিপক্ষে পয়েন্ট খুইয়ে নতুন ‘লিশটেনস্টাইন’ না হতে হয়!
ইতালিয়ান কোচ রবার্তো কেভলির অধীনে সান মারিনো দলে পুরোপুরি পেশাদার ফুটবলারের সংখ্যা মাত্র ৪-৫ জন। তারা মূলত ইতালির তৃতীয় বা চতুর্থ স্তরের লিগে খেলে থাকেন। দলের বাকি খেলোয়াড়রা অন্য পেশার পাশাপাশি ফুটবল খেলেন এবং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থেকে ভাতা পান। তবে তাদের আক্রমণভাগকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। দলের ৯ নম্বর জার্সিধারী নিকোলা ন্যানি, ১০ নম্বরের ফিলিপ্প বেরার্দি এবং তরুণ ফরোয়ার্ড নিকোলাস জিয়াকোপেত্তি যেকোনো মুহূর্তে বাংলাদেশের রক্ষণে চিড় ধরাতে পারেন। তা ছাড়া গত মার্চেই অ্যান্ডোরার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে তারা প্রমাণ করেছে, নিজেদের মাঠে তারা ছেড়ে কথা বলবে না।
সাবেক কোচ ক্যাবরেরার আক্রমণাত্মক স্টাইল থেকে সরে এসে নতুন কোচ থমাস ডুলি চাইছেন ‘বল পজিশন’ভিত্তিক ঝুঁকিহীন ফুটবল। প্রতিপক্ষকে বল দিয়ে পেছনে দৌড়ানোর বদলে নিজেদের পায়ে বল রেখে খেলা নিয়ন্ত্রণ করাই তার মূল দর্শন। রক্ষণভাগকে বিপদে ফেলে এলোপাতাড়ি আক্রমণের বিপক্ষে এ কোচ। ডুলির এই প্রথাগত কৌশলের সঙ্গে দল কতটা মানিয়ে নিতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
অন্যদিকে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইউরোপের পরিচিত কন্ডিশনে দারুণ আত্মবিশ্বাসী হামজা চৌধুরী। লেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমরা এখানে ভালো অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে এসেছি এবং ম্যাচটা জেতার জন্যই মাঠে নামব। সান মারিনোকে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই। তবে নিজেদের সামর্থ্যরে ওপর বিশ্বাস রাখলে জয় পাওয়াটা কঠিন কিছু নয়।’
বাফুফে এবার র্যাংকিংয়ের হিসাব-নিকাশ দূরে সরিয়ে ইউরোপীয় কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয় ডুলির নতুন কৌশল আর হামজার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউরোপে নিজেদের অভিষেকটা জয়ে রাঙাতে পারে কি না বাংলাদেশ।
