পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বাংলাদেশি দুই যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার ভোরে সীমান্তের ৪৪৬/১৪ আর নম্বর খুঁটির কাছে ভারতের দরগাসিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দুজন হলেন তেঁতুলিয়ার ব্রহ্মতল গ্রামের কেতাব আলীর ছেলে ইয়াসিন আলী (২৩) ও মাগুরা গ্রামের জুনু মিয়ার ছেলে আবদুল জলিল (২৪)। এ ঘটনায় বেলা দেড়টায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বিজিবির পক্ষ থেকে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে। অন্যদিকে বিএসএফ ময়নাতদন্তসহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুজনের মরদেহ ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে।
বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে কয়েকজন যুবক গরু আনতে ভারতীয় ওই সীমান্তের কাছে যান। তারা তেঁতুলিয়ার খয়খাটপাড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের মুড়িখাওয়া এলাকায় ঢুকলে ফকিরপাড়া ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এ সময় দুই যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। অন্যরা পালিয়ে আসেন। পরে দুজনের মরদেহ ভারতীয় পুলিশ পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার ফাঁসিদহ থানায় নিয়ে যায়।
পতাকা বৈঠকে বিএসএফ বিজিবিকে জানিয়েছে, বাংলাদেশিদের একটি দল রাতে অবৈধভাবে গরু আনতে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া কেটে প্রবেশ করেছিল।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি সুজয় কুমার রায় জানান, নিহত দুই যুবক গরু চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে তাদের ধারণা। পরিবার ও প্রতিবেশীরাও জানান, অবৈধভাবে গরু আনতে গিয়ে ভারতের সীমানায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন ইয়াসিন ও জলিল।
বিজিবির ১৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল যুবায়েদ হাসান জানান, ফকিরপাড়ায় ভারতীয় সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকায় অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে নিহত দুজনের মরদেহ ফেরত চাওয়া হয়েছে।
এদিকে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এক বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবিও জানান।