পাকিস্তানে ৯ মের দাঙ্গার এক বছর

ক্ষমা চাইবেন না ইমরান খান, চাপে তার সমর্থকরা

দুর্নীতির মামলায় ২০২৩ সালের ৯ মে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাকে টেনেহিঁচড়ে নেওয়ার এ ঘটনায় পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। দেশ জুড়ে বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে আসেন ইমরানের বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা। সেদিন পাকিস্তানের ক্ষমতাধর সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। এ ঘটনা ছিল দেশটির সেনাবাহিনীর জন্য একটি ধাক্কা। দেশটির সেনাবাহিনী দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে চিহ্নিত করে। তারা বিক্ষোভকে সেনাবাহিনীর ওপর আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করে। ২০২৩ সালের ৯ মের বিক্ষোভে কমপক্ষে ১০ জন নিহত হন। আহত হন শত শত ব্যক্তি। কর্র্তৃপক্ষ দাবি করে, সহিংসতায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা ২৫০ কোটি পাকিস্তানি রুপির সমান। এই ঘটনার পর ইমরান-সমর্থকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যারা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান, তারা নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ করেন।

গতকাল ছিল সেই ঘটনার প্রথম বর্ষপূর্তি। এর মধ্যে দেশটির রাজনীতির ময়দানে অনেক ঘটনাই ঘটে গেছে। সেবার গ্রেপ্তারের তিনদিন পর ছাড়া পেলেও গত আগস্ট মাসে আবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অবশ্য এর আগে তার দল তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। তারা অনেকে এখনো সেদিনের ঘটনার শারীরিক ও মানসিক আঘাত বয়ে বেড়াচ্ছেন। অনেকে এখনো কারামুক্ত হননি। 

এর মধ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনের আগেভাগে বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলায় ইমরানকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদের অভিযোগসহ বেশ কয়েকটি মামলা লড়ছেন ইমরান। কারাগারে থাকলেও পাকিস্তানে ইমরান ও তার দলের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। এ কারণেই হয়তো সেই বিক্ষোভ-সহিংসতার এক বছর পরে এসেও বলছেন, ৯ মের দাঙ্গার জন্য ক্ষমা চাইবেন না তিনি। 

গত বুধবার দেশটির আদিয়ালা কারাগারে ১৯ কোটি ডলার দুর্নীতি মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় গত বছরের ৯ মের সহিংস প্রতিবাদের জন্য ক্ষমা চাইবেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি নেতিবাচক উত্তর দেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন। তিনি জানান, সে সময় তিনি আটক ছিলেন এবং ওই প্রতিবাদের বিষয়ে কিছুই জানতেন না।

ইমরান উল্লেখ করেন, এই প্রতিবাদের বিষয়ে শুধুমাত্র তখনই জানতে পারেন যখন তাকে পাকিস্তানের তখনকার বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়ালের সামনে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যেই ওই সহিংস প্রতিবাদের নিন্দা করেছি।

এর আগে গত মঙ্গলবার পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর) এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আহমেদ শরিফ রাওয়ালপিন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ৯ মের প্রতিবাদের বিষয়ে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতারা প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না।

ইমরান বলেছেন, কর্র্তৃপক্ষ যদি সংলাপে আগ্রহী না হয় তাহলে পিটিআইও এর জন্য অপেক্ষা করবে না। পাকিস্তানের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পাকিস্তানের স্বার্থেই সংলাপ চান, ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য কোনো চুক্তি করতে চান না।

ইমরান জানান, সেনাবাহিনীর সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই এবং তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা সশস্ত্র বাহিনী ও আমলাতন্ত্রে কর্মরত ছিলেন।

তিনি ২০১৪ সালের অবস্থান ধর্মঘট নিয়ে তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার জন্যও প্রস্তুত আছেন আর তদন্ত কমিটির সামনে ‘আনন্দের সঙ্গে’ উপস্থিত হবেন বলে জানান। এই বিষয়ে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তদন্তে তা ‘মিথ্যা’ প্রমাণিত হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। সাবেক এই ক্রিকেট তারকা জানান, ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রতিবাদে ওই অবস্থান ধর্মঘটের আয়োজন করা হয়েছিল, কারণ ওই নির্বাচনে কারচুপি করা হয়েছিল। চলতি বছর, ২০২৪ সালের নির্বাচনেও কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।