৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে ১০ হাজার ৬৩৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পিএসসির বিশেষ সভা শেষে এ ফল প্রকাশ করা হয়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ করে রেকর্ড গড়েছে পিএসসি। প্রতিষ্ঠানটি এবার প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করতে সময় নিয়েছে মাত্র ১১ দিন, যা এর আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে।
এর আগে ৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল সবচেয়ে কম সময়ে প্রকাশ করেছিল পিএসসি। সে সময় পরীক্ষা নেওয়ার ১৭ দিনের মধ্যে প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করেছিল তারা। এ ছাড়া ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ২৫ দিনের মধ্যে। এর আগে ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশে সবচেয়ে বেশি সময় নিয়েছিল পিএসসি। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রায় তিন মাস পর ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। আর ৪২তম বিসিএস (বিশেষ) প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করা হয়েছিল এক মাস পর।
৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর ফল দ্রুত প্রকাশের ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়তে চায় বলে জানিয়েছিল পিএসসি। ঘোষণা অনুযায়ী, ইতিহাসের সবচেয়ে কম সময়ে প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশ করে রেকর্ড গড়ে প্রতিষ্ঠানটি।
৪৬তম বিসিএসের রোডম্যাপ অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে এই বিসিএস শেষ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন পিএসসির চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন। গত বছর ৩০ নভেম্বর ৪৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ কর্ম কমিশন। ৯ মার্চ ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কারণে প্রায় দেড় মাস পিছিয়ে দেওয়া হয় পরীক্ষা। তাতে শুরুতেই পরিকল্পনায় ধাক্কা খায় পিএসসি। তাই প্রিলির ফল প্রকাশের রেকর্ড গড়লেও ১২ মাসের মধ্যে বিসিএসের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করতে পারবে কি না, সে বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কেননা লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠান এবং ফল ঘোষণা করতেই প্রায় দুই বছর সময় লাগে।
২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর ৪৪তম বিসিএসের অনলাইন আবেদন শুরু হয়। আবেদনের শেষ সময় ছিল ৩১ জানুয়ারি। পরে তা বাড়িয়ে ২ মার্চ নির্ধারণ করে পিএসসি। এরপর ২০২২ সালের ২৭ মে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ২৫ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের মাধ্যমে রেকর্ড করে পিএসসি। তবে সে বিসিএসের পূর্ণাঙ্গ ফল দুই বছরেও প্রকাশ করতে পারেনি তারা। এরপর ৪৫তম বিসিএসেও প্রিলির ছয় মাস পর জানুয়ারিতে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এখনো তারা ফল দিতে পারেনি পিএসসি। কবে পূর্ণাঙ্গ ফল হবে সেটি গবেষণার বিষয়। সে প্রেক্ষাপটে এবারও রোডম্যাপ অনুযায়ী ১২ মাসে একটি বিসিএস শেষ করার স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে পিএসসির।
গত ২৬ এপ্রিল ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন কেন্দ্রে চাকরিপ্রার্থীরা অংশ নেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়। ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিতে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬১ প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। পরীক্ষা দেননি ৮৩ হাজার ৪২৫ জন। উপস্থিতির হার ৭৫। এ বিসিএসে ৩ হাজার ১৪০টি পদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নেওয়া হবে স্বাস্থ্য ক্যাডারে। সহকারী সার্জন ১ হাজার ৬৮২ জন, সহকারী ডেন্টাল সার্জন ১৬ জন নেওয়া হবে। এরপর সবচেয়ে বেশি নেওয়া হবে শিক্ষা ক্যাডারে। বিভিন্ন বিষয়ে এ ক্যাডার থেকে বিসিএস শিক্ষায় ৫২০ জন নেওয়া হবে।
৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণদের লিখিত পরীক্ষা আগামী আগস্ট মাসে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পিএসসি সূত্র। লিখিত পরীক্ষা কবে হবে, তা জানতে চাইলে পিএসসি চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষা আগস্ট মাসে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে। আমরা সভা করে পরীক্ষার তারিখ ঠিক করব। পরে তা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের জানানো হবে।’