নানা চক্রান্তের পরও প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে যে ভোট পড়েছে তা অকল্পনীয় বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বিএনপির ভোট বর্জনের আহ্বানকে দলের নেতাকর্মীরা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। দলটি যাদের বহিষ্কার করেছে তাদের মধ্যে অনেকেই নির্বাচিত হয়েছেন। কারণ তাদের কোনো নেতাকর্মী দলের সিদ্ধান্ত মানে না।’
গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনে (ছিল) ধান কাটার মৌসুম। আবার অনেক এলাকায় ঝড়-তুফান হয়েছে। তাই ভোট কিছুটা কম পড়েছে। আমার প্রশ্ন, বিএনপির আমলে কোনো নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে? ভুল আর ব্যর্থতার চোরাবালিতে আটকে বিএনপি কিছুই আদায় করতে পারবে না। যতদিন তারা সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরবে না, ততদিন তারা জনবিচ্ছিন্ন থাকবে।’
দলীয় কর্মসূচির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শনিবার শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করবে। ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে মহানগর, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করা হবে। আর ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বড় কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনার নির্দেশে সবাইকে কর্মসূচির কথা জানিয়েছি।’
বিএনপির সমাবেশ মানেই অগ্নিসন্ত্রাস ও রক্তপাত উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠে না থাকলে বিএনপি সমাবেশের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাবে, অতীতের ইতিহাস তাই বলছে। তাদের কাছে গোটা রাজধানীবাসীকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আন্দোলন এবং নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। আবারও দেশে আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা তৈরির পাঁয়তারা করছে তারা। যারা আন্দোলনে পরাজিত তারা নির্বাচনেও পরাজিত। ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশের দিন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতাদের দেখেছি পালানোর জন্য অলিগলি খুঁজে পাননি। তারা সমাবেশের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। তাই আমাদের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে, প্রস্তুত থাকতে হবে।’
‘ভারত আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পারবে না’ বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এ বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের ভারতকে খুশি করার দরকার নেই। আমরা নিজেদের শক্তিতে টিকে আছি, ভারতের দয়ায় নয়। ভারত আমাদের বন্ধু, পরীক্ষিত বন্ধু। নির্বাচনের সময় যুক্তরাষ্ট্র যে ভূমিকা নিয়েছিল, তখন ভারত একটা কথাও বলেনি, কোনো ভূমিকা রাখেনি। নিজের দেশকে এভাবে ছোট করা গয়েশ্বরদেরই মানায়।’
‘দুষ্ট ছেলে ইসরায়েল এখন যুক্তরাষ্ট্রকেও মানে না’ উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের আগ্রাসনের ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। হিটলারের হলোকাস্টের মতো আজ নেতানিয়াহু গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র না দিলেও তারা একা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এটি সারা বিশ্বের জন্য আতঙ্কের বিষয়। সারা বিশ্ব এ নিয়ে সোচ্চার। যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপে গাজার প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে কর্মসূচি করছে মানুষ। বিএনপি এ ব্যাপারে কোনো কথা বলছে না। ছাত্রলীগ বড় সমাবেশ করায় তাদের ধন্যবাদ জানাই।’