আমাদের কর্মীরা ক্লান্ত কিন্তু হতাশ নয় : গয়েশ্বর

ঢাকায় প্রায় ছয় মাস পর আবার সমাবেশ করল বিএনপি। সেই সমাবেশে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কর্মীদের আবার জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। আমাদের কর্মীরা ক্লান্ত কিন্তু হতাশ নয়। আমাদের নেতাকর্মীরা যে রকম অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে এখনো বুক টান করে দাঁড়িয়ে আছে স্বাধীনতা রক্ষায়, এই স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। এমনকি প্রতিবেশীদেরও নেই।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবীসহ সব রাজবন্দির মুক্তির দাবিতে গতকাল শুক্রবার এ সমাবেশ করেছে বিএনপি।

বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন গয়েশ^র চন্দ্র রায়। সমাবেশের পর মিছিল বের করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। মিছিলটি নয়াপল্টন থেকে পল্টন মোড়ের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিজয়নগর মোড় ঘুরে ফকিরাপুল হয়ে আবার নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয় মিছিল।

বিকেল ৩টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেলা ১১টা থেকেই ঢাকা মহানগর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানার নেতারা ব্যানার সহকারে নয়াপল্টনে আসতে শুরু করেন। দুপুর ২টার মধ্যেই সমাবেশস্থল ভরে যায়। বিএনপির কর্মসূচি সামনে রেখে সকাল থেকে নয়াপল্টনে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

‘আমেরিকার মতো দমনের জন্য পুলিশের প্রতি আমি যদি নির্দেশ দিই কেমন হবে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘তাদের এই নির্দেশের পর কিন্তু আমেরিকার এই পুলিশই হাঁটু গেড়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশটা আজ কাঁটাতারে ঝুলছে। যেভাবে ফেলানীকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, তেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতাও আজ কাঁটাতারে ঝুলছে। দেশটাকে নিয়ে, স্বাধীনতাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে, এ থেকে রক্ষা পেতে হলে একাত্তরের মতো জেগে উঠতে হবে।’

‘বিএনপি চলছে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যামে’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘বিএনপির রিমোট তো তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার হাতে। আপনাদের রিমোট কন্ট্রোল কি মোদির কাছে। আপনি ওবায়দুল কাদের নিজেই বলেছেন ভারত না থাকলে আপনারা ৭ জানুয়ারির নির্বাচন করতে পারতেন না। ভারতই আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে।’

গয়েশ^র বলেন, ‘অনেকে বলেন ওনার (প্রধানমন্ত্রী) পায়ের নিচে মাটি নেই। থাকবে কী করে? জনগণ বা মাটির সঙ্গে তো তার কোনো সম্পর্ক নেই। জনগণের তো ওনার দরকার নেই। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাচনে গোপালগঞ্জে শেখ সেলিমের প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও পরে রেহানার প্রার্থীকে জয়ী করা হয়। ভোটকেন্দ্রে ভোটার না থাকলেও কেন্দ্রের ভেতরে ঠিকই চলেছে ভোটডাকাতি। ৩ পার্সেন্ট ভোটকে ৪০ পার্সেন্ট দেখানোর জন্যই ফ্রি লাইসেন্স নিয়ে সরকার সমর্থকরাই এসব সিল মেরেছে। বাইরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট।’

পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ব্যারিস্টার সুমন কে? উনি কেন বেনজীরের অবৈধ সম্পদ খুঁজে বের করার জন্য চিঠি দিলেন? আজকে এসব চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের পুলিশ ধরে না, তাদের নামে মামলা হয় না, আর আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘আপনারা যে আচরণ করেছেন ক্ষমতার পরিবর্তন হলে তার ১০ ভাগের একভাগ আপনাদের সঙ্গে করলে তা সহ্য করতে পারবেন? তাই সীমা লঙ্ঘন করবেন না। তাই বলছি জনগণের সঙ্গে থাকুন, ন্যায়ের পথে থাকুন।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোনায়েম মুন্না, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।