জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য পদের জন্য ফিলিস্তিনকে সমর্থন দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। গতকাল শুক্রবারের ভোটে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা গৃহীত হয়েছে। জাতিসংঘে যোগ দেওয়ার যোগ্য হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়ে বিষয়টি আনুকূল্যের সঙ্গে পুনর্বিবেচনার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের কাছে সুপারিশ করেছে সাধারণ পরিষদ।
ফিলিস্তিনকে কার্যত রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ারই পদক্ষেপ এটি। গত মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ প্রচেষ্টা ভেস্তে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে। গতকাল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবনার পক্ষে পড়ে ১৪৩ ভোট। বিপক্ষে পড়ে ৯টি। এর মধ্যে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। আর ভোটদানে বিরত ছিল ২৫টি দেশ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সদস্য দেশ ১৯৩টি। ফিলিস্তিনিদের দাবির প্রতি বিশ্ববাসীর সমর্থনের বিষয়টিই যেন যাচাই হয়েছে গতকালের ভোটের মাধ্যমে।
সাধারণ পরিষদে ভোটের এ ফলে ফিলিস্তিন জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য পদ না পেলেও তারা এ বিশ্ব সংস্থায় যোগ দেওয়ার যোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেল। এ ছাড়া অতিরিক্ত কিছু সুবিধা ভোগ করবে ফিলিস্তিন। যেমন চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে পরিষদের অধিবেশন কক্ষে অন্য সদস্যদের সঙ্গে আসন পাবে তারা। তবে কোনো প্রস্তাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে না।
গতকাল পাস হওয়া প্রস্তাবে বলা হয়, ‘সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবনা নির্ধারণ করেছে যে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে... সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত এবং নিরাপত্তা পরিষদকেও বিষয়টি আনুকূল্যের সঙ্গে পুনর্বিবেচনার জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে।’
ফিলিস্তিন বর্তমানে জাতিসংঘ সদস্য না হলেও ২০১২ সালে তারা জাতিসংঘে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা পেয়েছে। জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য পদ লাভের জন্য ফিলিস্তিন বছরের পর বছর চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
২০১১ সালে পূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র হওয়ার জন্য প্রথমবারের মতো আবেদন করেছিল ফিলিস্তিন। এরপর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের মধ্যে গত মাসের শুরুতে আবারও সদস্য পদের জন্য আবেদন করে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভোটের আগে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেছিলেন, ‘আমরা শান্তি চাই। মুক্তি চাই। একটি হ্যাঁ ভোট মানে ফিলিস্তিনের অস্তিত্বের জন্য ভোট। এটি কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভোট নয়... এটি শান্তির পথে বিনিয়োগ।’
ভোটের পর ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, ‘প্রস্তাব পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে এটা দেখা গেছে যে, বিশ্ব ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা ও অধিকারের পক্ষে রয়েছে। একই সঙ্গে তারা ইসরায়েলের দখলদারির বিপক্ষে রয়েছে।’
অন্যদিকে এ ভোটের নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাড এরডান। তিনি বলেন, জাতিসংঘ এখন ‘একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রকে’ স্বাগত জানাচ্ছে।
ফিলিস্তিনের গাজায় গত সাত মাস ধরে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় ৩৪ হাজার ৯৪৩ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনের জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য পদের জন্য সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি তুলেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত।