বৃষ্টিতে নাকাল নগরবাসী

রাজধানীতে মুষলধারে হওয়া বৃষ্টিতে ডুবে গেছে রাস্তাঘাট। সকালে অফিস ও বাসা থেকে কাজে বের হওয়া মানুষদের পড়তে হয়েছে বিপাকে। একদিকে বৃষ্টি, আবার রাস্তায় জমাট পানি। দুইয়ে নাকাল নগরবাসী। এতে স্কুলগামী শিশু ও কর্মস্থলে যাওয়া মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েন। শনিবার (১১ মে) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংস্কারের উদ্দেশ্যে সড়কে যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়ি এবং বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট কাদায় চরম দুর্ভাগে পড়েছে মানুষ। কোথাও কোথাও এমন কাদা যে পায়ে হাঁটার উপায় নেই। পুরান ঢাকা, মিরপুর, পল্লবী, ভাষানটেক, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বাড্ডা, মাণ্ডা, হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় একই অবস্থা। তবে ঢাকায় সকালে ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আর এটা এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। 

আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে অতিবৃষ্টি। আগে ঢাকাসহ দেশের ৯ অঞ্চলের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। 

যদিও এর আগে গত শুক্রবার আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাসে জানায়, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

আবুল কালাম নামে বংশালের এক টিন ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এলাকার দুর্ভোগের কথা কইয়া কোনো লাভ নাইক্যা। গেলবারের মেয়র (সাঈদ খোকন) আমগো পাশের এলাকার আছিলেন। হ্যারে বহুতবার ভাঙ্গা রাস্তার কথা জানাইছে এলাকাবাসী, কোনো কাজ হয় নাইক্যা।’

নয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেন জানান, এই এলাকায় কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। ফলে পানি সরতে পারছে না। বৃষ্টিতে এলাকায় খোরাখুরির জন্য অসংখ্য খানাখন্দে ভরা পুরো সড়ক। ফলে কাদাপানিতে এই সড়কে চলাচল করে খুব কষ্টকর হয়ে যায়। 
  
মোটরসাইকেলে করে মিরপুর থেকে আসা হাসান বলেন, অল্প কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই কাজীপাড়া থেকে শেওড়াপাড়া পর্যন্ত বেগম রোকেয়া সরণিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পূর্ব কাজীপাড়া থেকে বের হয়ে মেট্রো স্টেশনের নিচে আসার আগে থেকে রাস্তায় হাঁটুপানি জমে গিয়েছিল। মেইন রোডের আটকে থাকা পানির পরিমাণ আরও বেশি। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের অর্ধেকের বেশি ডুবে গিয়েছিল। গত বছর বৃষ্টির পর বেগম রোকেয়া সরণির কাজীপাড়া-শেওড়াপাড়া অংশে জলাবদ্ধতার ঝামেলা খুব একটা না থাকলেও এ বছর আবারও পুরোনো রূপে ফিরেছে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, ঢাকায় সকালে ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এক ঘণ্টা ভালোমতো বৃষ্টিপাত ছিল। সারা দিন আর বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। শেষ রাতে আবার অল্প হতে পারে। তাছাড়া ১৩-১৪ তারিখে বৃষ্টির আবার সম্ভাবনা আছে। এরপর ১৯ তারিখের দিক বৃষ্টি হতে পারে বলে জানান তিনি।