আমি-আম্মু পাশাপাশিই থাকি সর্বক্ষণ। তাই তাকে নিয়ে আমার স্মৃতিচারণের প্রয়োজন হয় না। তা-ও মাকে নিয়ে কিছু কিছু গল্প থাকে আমাদের সবার জীবনে, যা কখনোই বিস্মৃত হওয়ার নয়। সেসব রঙিন স্মৃতি মনে পড়লেই আম্মুর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা কয়েকশ গুণ বেড়ে যায়। আজও মনে পড়ে আমার প্রথম শ্রেণির পরীক্ষাকালীন সময়ের কথা! আমাকে হলে ঢুকিয়ে আম্মু বাসায় চলে যান। কলম কয়েক অক্ষর পর্যন্ত চলার পড়েই থমকে গেল। হঠাৎ মনে হলো আমার পুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে আসছে, শরীরে যেন কোনো প্রাণ নেই, কেমন নিস্তেজ লাগছে। ধপাস করে লুটিয়ে পড়ি মাটিতে। তৎক্ষণাৎ আম্মুর কাছে ফোন যায় আমাদের স্কুলের প্রিন্সিপাল স্যারের। সঙ্গে সঙ্গে আম্মু চলে আসেন স্কুলে। এসে তার কী কান্না! তখন আমার জ্ঞান আস্তে আস্তে ফিরছে। শুধু আম্মুর কান্নার আওয়াজটুকুই শুনতে পাচ্ছি, কিন্তু কথা বলতে পারছিলাম না। আম্মু বাসায় নিয়ে আসার পথটুকু শক্ত করে আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছিলেন। আমার এতটুকু শক্তি ছিল না যে বলব, আম্মু আমি ঠিক আছি। মায়ের ভালোবাসার তুলনা হয় না জানতাম। কিন্তু কখনো অনুভব করিনি। সেদিন আম্মুর ভালোবাসাটা খুব কাছ থেকে অনুভব করেছিলাম। আম্মুকে কখনো বলা হয়নি, ‘মা তুমি আমার ভীষণ প্রিয়’।
সাবেকুন নাহার সামিয়া
হবিগঞ্জ গভ. মহিলা কলেজ, হবিগঞ্জ