ন্যাশনাল ব্যাংক

হারানো গৌরব ফেরানোর আশা নতুন চেয়ারম্যানের

সব সূচকেই উন্নয়ন নিশ্চিত করে দ্রুত ন্যাশনাল ব্যাংকের হারানো ঐতিহ্য ও গৌরব ফিরিয়ে আনা হবে বলে প্রত্যয় জানিয়েছেন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শিল্পপতি খলিলুর রহমান। তিনি জানান, তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খেলাপি ঋণ আদায়। গতকাল শনিবার নগরের অক্সিজেন এলাকার কেডিএস গ্রুপের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান এ কথা জানান।

দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী গ্রুপ কেডিএসের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের সার্বিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থাপনা পর্ষদকে নিয়ে ব্যাংকিং সুশাসন নিশ্চিতকরণ ও গ্রাহকের আস্থা অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে শেয়ারহোল্ডারদের মাধ্যমে এক হাজার কোটি টাকার মূলধন সরবরাহ করা হবে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন ও প্রকল্পের মাধ্যমে আরও তিন হাজার কোটি টাকার আমানত সংগ্রহ করা হবে।’

খেলাপি ঋণের মাত্রা কমিয়ে আনাসহ আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়ে খলিলুর রহমান বলেন, ‘ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে যারা ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়েছেন, এই ঋণের কোনো মাফ নেই। ফেরত দিতেই হবে। প্রয়োজনে খেলাপিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে বিক্রি করে ঋণ আদায় করা হবে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা নিজেরাই শক্তিশালী হতে চাই। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশক্রমে কাজ করব। আগামী এক বছরের মধ্যে ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাবে ইনশাআল্লাহ। আমাদের সবচেয়ে অগ্রাধিকার থাকবে খেলাপি ঋণ আদায়। এরপর উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বাড়ানোর মাধ্যমে আয় বাড়ানো হবে।’

ইতিমধ্যেই খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়ে চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, ‘ঋণ আদায়ে বিভিন্ন শাখাকে লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের আর্থিক খাত সংস্কার, খেলাপি ঋণ, সুদের হার বাস্তবায়ন, মুদ্রানীতি, মূল্যস্ফীতি, বিদেশি বাণিজ্যের ভারসাম্য নিয়ে পর্ষদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।’ প্রকৃত ব্যবসায়ী ঋণ নিলে খেলাপি হতে পারে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘অ্যাসেসমেন্ট করে ঋণ দেওয়া হয়নি। মনিটরিং করা হয়নি। আমরা প্রত্যেকের কাছে যাব যারা খেলাপি। বড় খেলাপিদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ভুল স্বীকার করেছে, টাকা পরিশোধে ইচ্ছুক।’

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বড় ব্যবসায়ীদের টাকা খেলাপি হবে না। যারা ব্যবসায়ী না হয়ে ঋণ নিয়েছে তারাই সমস্যা।

ব্যাংক ব্যবসা বুঝতে হবে বলে মন্তব্য করে খলিলুর রহমান বলেন, ‘ব্যাংক ম্যানেজার ব্যবসা বুঝলে ঋণ দিতে পারে। যাকে ঋণ দেবে, তার বিনিয়োগ মনিটরিং করতে হবে। নিয়মিত পরিশোধ করছে কি না দেখতে হবে। বড় লোনে ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক রিশিডিউল করা হবে। যেসব ব্যাংকের স্টাফরা মনিটরিং করেননি সেগুলো কস্টে পড়ে গেছে। মনিটরিং থাকলে টাকা খেলাপি হয় না। খেলাপির কারণে বিশ্বাস কমে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের। প্রকৃত ব্যবসায়ী ব্যাংকের টাকা মেরে খাবেন না। ব্যবসায়ীদের মুখের কথার দাম আছে। আমরা কোটি কোটি টাকা কথার ওপর দিয়ে থাকি, বেইমানি হয় না। আমরা চেষ্টা করব বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে। মালয়েশিয়ায় আমাদের ১১টি, মালদ্বীপে ৩টি, সিঙ্গাপুরে ২টিসহ বিভিন্ন দেশে শাখা আছে। এসব শাখার মাধ্যমে আমার বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করব।’ 

ন্যাশনাল ব্যাংককে ব্যবসায়ীবান্ধব ব্যাংক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের জন্য সময়োপযোগী এবং বাস্তব সিদ্ধান্ত নেওয়ার মাধ্যমে ও তাদের পাশে থেকে এর মাধ্যমে ন্যাশনাল ব্যাংক ঘুরে দাঁড়াবে ও তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।’

প্রসঙ্গত, ন্যাশনাল ব্যাংককে বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সঙ্গে একীভূত করার পরামর্শ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে ন্যাশনাল ব্যাংক তাতে সায় দেয়নি। গত ৫ মে ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠন করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

অন্য এক মতবিনিময় সভায় ন্যাশনাল ব্যাংকের ২০২৪ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ব্যবসা সম্প্রসারণ, গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধি, শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়সহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যাংকের উত্তরোত্তর উন্নতি করে হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য সংকল্পবদ্ধ হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের চট্টগ্রাম অঞ্চলের শাখাপ্রধানদের নিয়ে এ মতবিনিময় সভা হয়। ব্যাংকের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান। এ সময় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. হেলাল উদ্দিন নিজামী, পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন, মো. রিয়াজুল করিম, এরশাদ মাহমুদ, অধ্যাপক এ কে এম তফাজ্জল হক ও ড. রত্না দত্ত উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল আলম খান, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ আকতার উদ্দিন আহমেদ ও মো. আবদুল মতিন।