সভায় জিএম কাদের

বৈষম্যে নোবেল পুরস্কার থাকলে সরকার পেত

দেশের ইতিহাসে অতীতে কোনো সময় এত বেশি বৈষম্য ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দল নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বলেন, বৈষম্য তৈরি করার জন্য যদি নোবেল পুরস্কার থাকত, তাহলে বর্তমান সরকার সেই নোবেল পুরস্কার পেত।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা আয়োজিত মতবিনিময় সভায় জিএম কাদের এসব কথা বলেন।

বিরোধী দল নেতা বলেন, ‘এখন জনগণের কথায় যে চলবে, জনগণের কথায় যে সরকার পরিবর্তন হবে, এ রকম কোনো বিষয় ঘটছে না। জনগণের কথা বলারই অধিকার নেই, রাষ্ট্রের মালিকানা তাদের হাতে নেই! এটা হলো বাস্তব কথা। সরকার একটা শক্তি-সামর্থ্য নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশটাকে দখল করে ফেলেছে। এখন জনগণের কথা নয়, তাদের কথায় জনগণকে চলতে হবে এবং তাদের কথায় বৈষম্য বা যাই হোক সৃষ্টি হবে।’

বর্তমান সরকার সিন্দাবাদের দৈত্য হয়ে জনগণের কাঁধে চেপে বসেছে এমন মন্তব্য করে জিএম কাদের বলেন, ‘এখন আমার কাছে মনে হয়, আমরা ছোটবেলায় রূপকথার গল্প পড়তাম, আরব্য রজনী। সেখানে বলা হতো, সিন্দাবাদকে একবার দৈত্য নদী পার হওয়ার কথা বলে। সে বলে আমি পঙ্গু, আমাকে পার করে দেন। পরে সে সিন্দাবাদের ঘাড়ে ওঠে, কিন্তু এরপর আর ঘাড় থেকে নামে না।’

জাতীয় পার্টি বৈষম্যমুক্ত সমাজ চায় দাবি করে তিনি বলেন, ‘যারা সরকারি দল করছেন, তারা সব ধরনের নিয়মনীতির বাইরে। সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন এবং তারা একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী তৈরি করেছেন। চাকরি, ব্যবসা থেকে শুরু করে সবকিছুতেই প্রথম প্রশ্ন আপনি সরকারি দলের সদস্য কি না। দ্বিতীয় প্রশ্ন আপনার পরিবারের কেউ সরকারি দলের বাইরে অন্য কোনো দল করে কি না। যে রাষ্ট্রের জন্য মানুষ জীবন দিল, সেই রাষ্ট্র আজ চলে গেছে একটি গোষ্ঠীর হাতে। যারা আওয়ামী লীগের বাইরে তারা অবাঞ্ছিত।’

আজকাল লোকজন নির্বাচনে যায় না দাবি করে সরকারের অন্যতম সহযোগী দল হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘জনগণকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আজকাল নির্বাচনে লোকজন যায় না, তাদের বক্তব্য আমরা গেলেই কী আর না গেলেই কী।’ সামনের দিকে রাজনীতি আরও কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি।

নিজের দলের নেতাকর্মীদের সমালোচনা করে জিএম কাদের বলেন, ‘যারা কিছুটা হলেও ক্ষমতার স্বাদ পাচ্ছেন। কিছুটা হলেও ক্ষমতার সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। যেমন আমাদের দলের, আমরা পাচ্ছি, আমি পাচ্ছি। তাদের মধ্যে একটি দ্বিধা আসছে যে, সরকার যেভাবে চেপে বসেছে, থাকবেই। কাজেই দরকার কী! এদের সঙ্গে লাইন দিয়ে যা পারা যায়... আর যাদের সরকার নিচ্ছে না, যেমন অনেক দল এখন... তাদের তো বাধ্য হয়ে সরকারের বিপক্ষে থাকতেই হবে। তারা চাক আর না চাক, জনগণের পক্ষে গিয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে। যেহেতু তাদের কোনো জায়গা নেই কোনোখানে।’

তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ‘যারা আওয়ামী লীগের বা সরকারি দলের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনেক দিন অনেক কিছু করেছেন, তাদের কিন্তু দুই মিনিটে আবার লাথি দিয়ে ফেলেও দেওয়া হয়েছে।’

ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক সামছুল হক সামছুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সুলতান আহমেদ সেলিম।