ঘুষ নিয়ে ঠিকাদারকে কাজ দেননি প্রকৌশলী!

ঘুষ নিয়ে কাজ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ঠিকাদার হাজি আবদুল ওয়াহাব গত ২৩ এপ্রিল এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান কাজ দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের আবদুল ওয়াহাব জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন ৩য় শ্রেণির ঠিকাদার। কাজের সূত্রে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ওয়াহাব নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে তার দপ্তরের কাজ পাইয়ে দেওয়ার তদবির করেন। তখন তিনি জেলার মদন ও খালিয়াজুরী উপজেলার ওয়াশ ব্লকের কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিন লাখ টাকা ঘুষ চান। ঠিকাদার আবদুল ওয়াহাব গত মার্চ মাসের ৩ তারিখে সোনালী ব্যাংকের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শাখায় নির্বাহী প্রকৌশলীর অ্যাকাউন্টে তিন লাখ টাকা পাঠান। ঠিকাদার টাকা পাঠানোর রসিদ দিয়ে কাজের ওয়ার্ক অর্ডার চান প্রকৌশলীর কাছে। পরে প্রকৌশলী তাকে কাজ দিচ্ছি দেব বলে সময়ক্ষেপণ করেন। পরবর্তী সময়ে এপ্রিল মাসে তিনি কাজ পাইয়ে দিতে পারবেন না বলে ঠিকাদারকে জানিয়ে দেন। এরপর প্রকৌশলী মশিউর রহমানের কাছে টাকা ফেরত চাইলে ঠিকাদার ওয়াহাবকে অপমান করে অফিস থেকে বের করে দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ‘নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় হাওর প্রকল্পের ৫০টি নলকূপ স্থাপনের কাজ না করেই ঠিকাদারের মাধ্যমে বিল উত্তোলন করেন প্রকৌশলী মশিউর রহমান। সেই টাকা দিয়ে জামালপুরে বাড়ি নির্মাণ করছেন তিনি। এ সব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিলেও কোনো কাজ হয়নি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মশিউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবদুল ওয়াহাব নামের কোনো ঠিকাদার বা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক নেই। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইব্রাহিম দেশ রূপান্তকে বলেন, ‘অভিযোগের কপি এখনো হাতে পাইনি। পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’