কীভাবে প্রতিরোধ করবেন হৃদরোগ

এক সময় মনে করা হতো শুধুমাত্র বয়স্কদেরই হৃদপি-ের সমস্যা হতে পারে। তবে এখন অল্প বয়সেই অনেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। হৃদরোগজনিত অকালমৃত্যুর সংখ্যাও ক্রমশ বেড়ে চলেছে। অপরিকল্পিত জীবন-যাপন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও পরিমিত শারীরিক শ্রমের অভাবে দিনকে দিন হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সময়মতো সচেতন না হলে যেকোনো সময় যে কারও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, হৃদরোগের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ করা উত্তম। চলুন, হৃদরোগ প্রতিরোধের ৭টি সহজ উপায় জেনে নিই।

১. ক্যারটিনয়েড ও ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার খান: ক্যারটিনয়েড ও ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার হার্টকে সুস্থ রাখে। এই খাবারগুলোতে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা হার্টের জন্য খুবই উপকারী। ক্যারটিনয়েড ও ভিটামিন-সি যুক্ত ফলমূল হচ্ছে: কমলালেবু, পেঁপে, আপেল, কলা, স্ট্রবেরি, আঙ্গুর ইত্যাদি।

২. নিয়মিত ফলমূল ও সবুজ শাকসবজি খান : নিয়মিত ফলমূল ও সবুজ শাকসবজি খেলে হার্ট ভালো থাকে। বিশেষ করে, তাজা ফলের রস হার্টের জন্য খুবই ভালো। সবুজ শাকসবজির মধ্যে পালংশাক, লাউ, কুমড়া, গাজর, বিট, বাঁধাকপি, ভুট্টা, লাল আলু ইত্যাদি হার্টের জন্য বেশ উপকারী। এর পাশাপাশি সালাদ ও প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া প্রয়োজন।

৩. খাবার তালিকায় মাছ যোগ করুন : ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার খেলে হার্টের রোগের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে আসে। মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ মাছ হার্টের অনিয়মিত স্পন্দন অর্থাৎ হঠাৎ ওঠা-নামাকে কমায়। পাশাপাশি এই এসিড রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে ও রক্তনালিতে কোলেস্টেরল জমাট বাঁধা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৪. রান্নায় আদা, রসুন ও হলুদ ব্যবহার করুন : রান্নার সময় মসলা হিসেবে আদা, রসুন ও হলুদ ব্যবহার করুন। এগুলো রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

৫. ডায়েট চার্ট পরিবর্তন করুন : হার্ট ভালো রাখার জন্য আপনার ডায়েট চার্ট পরিবর্তন করুন। প্রতিদিন ডায়েটে আঁশযুক্ত খাবার রাখুন। প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া খাদ্য তালিকায় তিন ধরনের খাবার রাখার চেষ্টা করুন :

সেদ্ধ, কাঁচা বা অল্প তেলযুক্ত সবজি গোটা ও দানাদার শস্যযুক্ত খাবার মাছ বা ডিম জাতীয় খাবার।

৬. রান্নায় সঠিক তেলের ব্যবহার করুন : হার্টের সুস্থতায় রান্নার তেল নির্বাচনের সময়ও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। রান্নায় অলিভ অয়েল বা বাদাম তেল ব্যবহার করা ভালো। ভেজিটেবল অয়েলও হার্টের জন্য ভালো। সয়াবিন বা সরিষার তেল রান্নায় বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়।

৭. সুস্থ হার্টের জন্য নিয়মিত শরীরচর্চা করুন :  নিয়মিত শরীরচর্চা হার্ট বা হৃদপি-কে সুস্থ রাখে। প্রতিদিন নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করলে শরীরে অক্সিজেনের প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে, ফলে হার্ট ভালো থাকে। এছাড়া শরীরচর্চা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং টেনশন ও ডিপ্রেশন কমায়।