মসজিদ নির্মাণের সাড়ে ৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মান্দার বাড়িয়া গ্রামের আশরাফিয়া জামে মসজিদের নির্মাণকাজের সাড়ে সাত লাখ টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে একটি চক্র ব্যাংক থেকে তুলে আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মহম্মদপুর থানায় গত ৯ এপ্রিল চারজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এতে শরীফ আলিমুজ্জামান ও তার সহযোগী ইমাম শরীফকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে মহম্মদপুর থানা-পুলিশ।

মামলার বাদী মসজিদ কমিটির সদস্য শরীফ ফরিদ লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মান্দার বাড়িয়া গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় ২০১৬ সালে আশরাফিয়া জামে মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরপর থেকেই এলাকার শরীফ আলিমুজ্জামানসহ অন্যরা বিভিন্নভাবে মসজিদের নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে মসজিদ নির্মাণকাজের জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান আকিজ কোম্পানি ৩০ লাখ টাকা অনুদান মঞ্জুর করে। ওই টাকা থেকে মসজিদ নির্মাণকাজের জন্য ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা হিসাব নম্বর ০১০০০৮১৫৭২১৩০, জনতা ব্যাংক মহম্মদপুর শাখায় রাখা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে মসজিদ নির্মাণ বাবদ অনুদান আসে। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর শরীফ আলিমুজ্জামান, গোলাম রব্বানী, মোতাহার মোল্যা, কাজল মোল্যাসহ বাদী শরীফ ফরিদের কাছে মসজিদের অ্যাকাউন্ট থেকে এক-তৃতীয়াংশ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ টাকা না দিলে মসজিদের নির্মাণকাজ বন্ধ করাসহ মসজিদ কমিটির সদস্যদের বিপদে ফেলবে হুমকি দেন।

এরপর ১৬ এপ্রিল বাদীসহ অন্য সদস্যরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারেন ওই হিসাব নম্বরে কোনো টাকা নেই। শরীফ আলিমুজ্জামান, কাজী সাইদুর রহমান, ইমাম শরীফ, জামাল মোল্যাসহ অজ্ঞাতপরিচয়ে অনেকে মসজিদের নামে একটি গোপন কমিটি করেছেন। ওই কমিটির মাধ্যমে অসাধু উপায়ে মসজিদের নামে থাকা জনতা ব্যাংক মহম্মদপুর শাখা থেকে নতুন একটি চেক বই সংগ্রহ করেন তারা। ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময় অভিযুক্ত শরীফ আলিমুজ্জামান এবং কাজী সাইদুর রহমান নতুন চেক বই ব্যবহার করে মসজিদের হিসাব নম্বর থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন।

এ বিষয়ে মহম্মদপুর থানার ওসি মোহাম্মদ বোরহান উল ইসলাম বলেন, ‘ফরিদ শরীফের করা মামলায় ইতিমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।