আত্মসাতের টাকা ফেরত পেতে চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জামাল মিয়ার বিরুদ্ধে বিনা খরচে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আত্মসাৎ করা টাকা আদায়ে ভুক্তভোগীরা গতকাল বুধবার দুপুরে দুই ঘণ্টা ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী দেশ রূপান্তরকে জানান, ইউপি চেয়ারম্যান জামাল মিয়া প্রায় আট থেকে নয় মাস আগে বিনা খরচে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের অর্ধশতাধিক দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে পাসপোর্ট নেন। শুরুতে বিনা খরচে বিদেশে পাঠানোর কথা বললেও পরে বিভিন্ন খরচের নামে প্রত্যেকের কাছ ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ পর্যন্ত টাকা আদায় করেন।

ভুক্তভোগীরা বলেন, ‘এরপর আট থেকে নয় মাস অতিবাহিত হলেও তারা বিদেশে যেতে না পেরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরে ভুক্তভোগীরা চেয়ারম্যানের কাছে টাকা দাবি করলে তিনি ১৫ মের (গতকাল বুধবার) মধ্যে বিদেশ পাঠাতে না পারলে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। ভুক্তভোগীরা গতকাল কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে টাকা চাইতে গেলে চেয়ারম্যান জামাল মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন চান ও তার সহযোগী চার থেকে পাঁচজন ভুক্তভোগীকে মারধর করেন বলে তারা অভিযোগ করেন। পরে সখীপুর থানার পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

এ খবর জানাজানি হলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় কয়েকশ লোক কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে চেয়ারম্যান জামাল মিয়া ও তার ছেলেকে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে জামাল মিয়া ও তার ছেলে আলমগীর হোসেন চান আগামী ২২ মে ভুক্তভোগীদের টাকা এবং পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এর আগে গত ২ মে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ও সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, ইউপি সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, পরিষদে চেয়ারম্যানের ছেলে আলমগীর হোসেন চানের প্রভাব বিস্তার, ইউপি সদস্যদের হুমকি দেওয়াসহ ১০টি অভিযোগ উল্লেখ করে ইউপির নয় সদস্য সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেন।

এর মধ্যে চেয়ারম্যান ও নয়জন ইউপি সদস্য পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভাও করেছেন।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান জামাল মিয়া বলেন, ‘আমি সরাসরি কারও কাছ থেকে টাকা নিইনি। কয়েকজন ইউপি সদস্যের মাধ্যমে নিয়েছি। বিষয়টি ২২ মে মীমাংসা করা হবে।’

সখীপুর ইউএনও মোহাম্মদ হোসেন পাটওয়ারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চেয়ারম্যান জামাল মিয়া ও তার ছেলে অবরুদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত এখনো চলছে।’