পঞ্চমবারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার চীন সফরে গেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে দুই দিনের সফরে বেইজিংয়ে পৌঁছান পুতিন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি জানিয়েছে, এদিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী একটি নতুন যুগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়াও উভয় নেতাই তাদের অটুট বন্ধুত্ব এবং দুই দেশের মধ্যে গভীর সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব পিপলের বাইরে পুতিনকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় তাকে আর্মিরা স্যালুট দেয় এবং শিশুরা দুই দেশের পতাকা নেড়ে তাদের স্বাগত জানায়। পুতিন জানান, তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইউক্রেন সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইউক্রেন সংকট সমাধানে চীনের প্রচেষ্টার জন্য মস্কো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
পুতিন বলেন, রাশিয়া এবং চীনের অনেক বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক সমস্যার দৃষ্টিভঙ্গি একই রকম। উভয় দেশ স্বাধীন বৈদেশিক নীতি পালন করে। অন্যদিকে শি রাশিয়ার সঙ্গে তাদের চিরস্থায়ী বন্ধুত্ব সম্পর্কের প্রশংসা করেন। বলেন, উভয় দেশ সর্বদা তাদের মূল আকাঙ্ক্ষা মেনে চলবে, নাগরিকদের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে এবং বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্য যথাযথ অবদান রাখবে।
এদিন গাজা যুদ্ধ নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান চীনের প্রসিডেন্ট। বলেন, ইসরায়েল ও গাজার সংঘাত সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি। ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেছেন শি। তিনি বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের রাজনৈতিক সমাধান করা উচিত। এ বিষয়ে বেইজিং ও মস্কো সম্মত হয়েছে। এছাড়াও তারা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান উন্নতি এবং নতুন চুক্তির বিষয়ে প্রশংসা করেছেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেইজিং সফর করেছিলেন পুতিন। এর কয়েকমাস পর ইউক্রেনে হামলা চালান তিনি, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে মারাত্মক স্থলযুদ্ধের সূত্রপাত করে।
পুতিন ও শি এদিন একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন যেখানে প্রতিরক্ষা ইস্যু এবং তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা রয়েছে। শি বলেন, চীন-রাশিয়ার সম্পর্ক উভয়ের লালন-পালন করা দরকার। চীন যৌথভাবে নিজ নিজ দেশের উন্নয়ন এবং বিশ্বে ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখতে একসঙ্গে কাজ করে।
সত্যি বলতে উভয় নেতা এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন যাতে পশ্চিমকে ক্ষয়িষ্ণু এবং পতনশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং তারা গুপ্তচরবৃত্তি থেকে শুরু করে সামরিক শক্তিতেও মার্কিন আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে।