ইউরোপিয়ান ফুটবল থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন দু বছর হলো। এসেছেন এশিয়ার দেশ সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে। সেখানে এসেও থেমে নেই তার আয়ের উৎস। এখনও তিনিই বিশ্বের শীর্ষ আয় করা ক্রীড়াবিদ। বরং ইউরোপ ছেড়ে আমেরিকায় পাড়ি জমানো লিওনেল মেসির আয়ের তালিকায় অবনতি হয়েছে। এই আর্জেন্টাইন গ্রেট পিছিয়েছেন তিনি এক ধাপ।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্রীড়াবিদদের তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস। যেখানে এবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তালিকার শীর্ষ ১০ জনের সবার আয় ১০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্রীড়াবিদদের এই বছরের তালিকা বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসা–বাণিজ্যবিষয়ক সাময়িকী ফোর্বসের হালনাগাদ তালিকায় এ সব তথ্য উঠে এসেছে।
ইউরোপিয়ান ফুটবল ছাড়লেও আয়ে ভাটা পড়েনি রোনালদোর। ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার গত এক বছরে ২৬ কোটি মার্কিন ডলার আয় করেছেন। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ হাজার ৪৭ কোটি টাকার বেশি। রোনালদোর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করেছেন স্প্যানিশ গলফার জন রাম, আর্জেন্টাইন ফুটবলার লিওনেল মেসি আছেন তিনে। এই আয় নিয়ে চতুর্থবারের মতো শীর্ষে আছেন তিনি।
গত বছরের জানুয়ারিতে সৌদি প্রো লিগের দল আল নাসরে যোগ দেন রোনালদো। ক্লাবটিতে বার্ষিক প্রায় ২০ কোটি ডলার বেতন পান ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এ ছাড়া প্রায় ৬৯ কোটি ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সৌজন্যে নানা প্রতিষ্ঠানের স্পনসর থেকেও বিপুল আয় আছে রোনালদোর। ফোর্বস রোনালদোর মাঠের বাইরের আয় ৬ কোটি মার্কিন ডলার বলে উল্লেখ করেছে।
রোনালদোর পরেই দ্বিতীয় স্থানে আছেন স্প্যানিশ গলফার জন রাম। রামের ক্ষেত্রেও সৌদি আরবের বিশেষ ভূমিকা আছে। দেশটির এলআইভি গলফে রামের যোগদান ছিল গলফের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। সেখান থেকে রাম ন্যূনতম ৩০ কোটি ডলার পারিশ্রমিক পাবেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছিল। ফোর্বস বলছে, রামের বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ২১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। ২০ কোটির বেশি আয় আছে রাম আর রোনালদোরই।
আর্জেন্টাইন ফুটবলার মেসির মাঠ ও মাঠের বাইরের আয় প্রায় সমান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামি থেকে বছরে সাড়ে ছয় কোটি মার্কিন ডলার আয় করেন তিনি। এ ছাড়া অ্যাডিডাস, অ্যাপলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে আয় আছে আরও ৭ কোটি। সব মিলিয়ে সাড়ে ১৩ কোটি ডলার আয় নিয়ে মেসি আছেন তিন নম্বরে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৫৮২ কোটি টাকার বেশি।
আয়ের দিক থেকে শীর্ষ পাঁচে থাকা শেষ দুটি নাম বাস্কেটবলের। যুক্তরাষ্ট্রের এনবিএ তারকা লেব্রন জেমসের আয় ১২ কোটি ৮২ লাখ, আর গ্রিক–নাইজেরিয়ান বাস্কেটবল তারকা জিয়ানিস আন্তেতেকুমপোর আয় ১১.১ কোটি ডলার।
সামনের মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিতে যাওয়া ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের আয় ১১ কোটি। তাঁর পরেই অবস্থান সৌদি আরবে খেলা ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার (১০.৮) ও করিম বেনজেমার (১০.৬)।
ফোর্বস জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি আয় করা শীর্ষ দশ ক্রীড়াবিদের সম্মিলিত বার্ষিক আয় ১৩৮ কোটি মার্কিন ডলার। হিসাবটি করা হয়েছে কর ও এজেন্ট ফি প্রদানের আগেই।