অনিয়মের প্রতিবাদ করায় চাঁদাবাজির মামলা

হাতের টানে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

জেলার ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউপি থেকে কালীগঞ্জ বাজার পর্যন্ত চার কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কার্পেটিং (পিচ ঢালাই) দুদিন পরেই উঠে যাচ্ছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ অব্যাহত রাখার প্রতিবাদে এলাকাবাসী গত দুদিন ধরে নির্মাণাধীন সড়কে মানববন্ধন করে। অন্যদিকে, প্রতিবাদ করায় উল্টো এলাকাবাসীর নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ দিয়ে পুলিশি হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিমলা থানার ওসি দেবাশীষ রায় বলেন, রাস্তা সংস্কারের কাজে কোনো বাধা না দিতে এলাকাবাসীকে কাজ চলমান রাখার জন্য বলা হয়েছে। কোনো ধরনের হুমকি বা হয়রানি করা হয়নি স্থানীয়দের।

রাস্তা সংস্কারের এ ব্যাপারে ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল ইসলামকে জিজ্ঞেস করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কাজে তো অনিয়ম আছেই।’ একপর্যায়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এর জন্য কি আমরা ঠিকাদারের সঙ্গে মারামারি করব? অনিয়মের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।’

গতকাল রবিবার সরেজমিনে জানা যায়, ১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৩০০ মিটার সড়কটির সংস্কার কাজ পেয়েছেন জামান ট্রেডার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে কাজটি মূল ঠিকাদার করছেন না। কাজটি বিক্রি করা হয়েছে নাসিমুল একরাম সুমন নামের আরেক সাব ঠিকাদারের কাছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানায়, ছয় মাস আগে রাস্তাটির সংস্কারকাজ শুরু হয়। গত ১২ মে রাস্তাটির কারপেটিং শুরু করেন ঠিকাদার। কিন্তু দুদিনের মাথায় ১৪ মে থেকেই রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই রাস্তা দিয়ে আমাদের প্রতিদিন চলাচল করতে হয়। আমরা তো কাজের মান ভালো চাইব। কিন্তু ঠিকাদার এলজিইডির প্রকৌশলীদের সঙ্গে মিলে নিম্নমানের ও কম সামগ্রী দিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করছেন। ধূলিমিশ্রিত স্থানীয় পাথর, নিম্নমানের ইরানি বিটুমিন ব্যবহারের সময় স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও কোনো লাভ হয়নি। ঠিকাদার রাস্তার অনেক স্থানে ইটের খোয়ার পরিবর্তে মাটিও ব্যবহার করেছেন। এ ছাড়া দরপত্রে সড়কের প্রস্থ ১০ ফুট থাকলেও করা হচ্ছে ৯ ফুট ৯ ইঞ্চি।

নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে সাব-ঠিকাদার নাসিমুল একরাম সুমন সাংবাদিকদের বলেন, আমি তো সেখানে যাই না। এলজিইডির লোকজনের উপস্থিতিতে রাস্তা কার্পেটিং ও সংস্কার করা হয়। থানা ইঞ্জিনিয়ার (উপজেলা প্রকৌশলী) ও অফিসের লোক সিদ্দিককে (উপসহকারী প্রকৌশলী) বলে দিয়েছি আপনারা দেখে নিয়ে কাজ করেন।

এ বিষয়ে নীলফামারী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ হাসান মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হবে। কাজে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।