অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগের লক্ষণ, জটিলতা ও চিকিৎসা

আমাদের খাদ্যনালিতে দুটি অংশ রয়েছে : ক্ষুদ্রান্ত্র এবং বৃহদান্ত্র। বৃহদান্ত্রের সিকাম নামক অংশের সঙ্গে আঙুলের মতো দেখতে ছোট থলি ঝুলে থাকে। একেই অ্যাপেনডিক্স বলে। সাধারণত আঘাত, পীড়া বা সংক্রমণের কারণে অ্যাপেনডিক্সে প্রদাহ হতে পারে। প্রদাহের কারণে ফুলে ওঠে এবং তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। ডাক্তারি ভাষায় অ্যাপেন্ডিসাইটিস বলে।

কেন এবং কীভাবে হয়?

কোনো কারণে অ্যাপেনডিক্সে খাদ্য বা মল ঢুকে গেলে কিংবা কৃমি আটকে গেলে সেখানে সংক্রমণ হতে পারে। জীবাণুর সংক্রমণে অ্যাপেনডিক্সে প্রদাহ তৈরি হয় এবং বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। তবে রোগের তীব্রতা অনুযায়ী উপসর্গগুলো পরিবর্তিত হতে পারে।

উপসর্গ ও লক্ষণ

 পেটে ব্যথা। সাধারণত নাভীর কাছ থেকে শুরু হয়ে পেটের ডান দিকের নিম্নাংশে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে  ক্ষুধামন্দা  বমি ভাব বা হওয়া

 কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া  জ্বর থাকতে পারে। সাধারণত অতি উচ্চমাত্রায় নয়।  শারীরিক দুর্বলতা  অ্যাপেনডিক্স কোনো কারণে ফেটে গেলে পুরো পেট জুড়ে অনেক বেশি ব্যথা অনুভূত হয়, পেট শক্ত হয়ে ফুলে যায় এবং পেটে চাপ অনুভূত হয়।

জটিলতা

অনেক সময় ব্যথা সইতে না পেরে বা রোগের তীব্রতা কমাতে রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে থাকেন। এতে বরং শরীরে মারাত্মক ধরনের জটিলতা তৈরির ঝুঁকি বাড়ে। বরং অ্যাপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণগুলো দেখা দিলে খুব দ্রুত কোনো সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। না হলে নিম্নোক্ত জটিলতাগুলো তৈরি হতে পারে

অ্যাপেনডিক্সে পচন ধরতে পারে (গ্যাংগ্রিন)অন্ত্র বা খাদ্যনালি ছিদ্র হয়ে যেতে পারে (পারফোরেশন) পেটের ভেতর পেরিটোনিয়াম নামক পর্দার প্রদাহ হতে পারে (পেরিটোনাইটিস) পেট জুড়ে প্রদাহ এবং সংক্রমণের বিস্তার ঘটতে পারে। এছাড়া রোগী সেপসিস-এ আক্রান্ত হতে পারে। অ্যাপেনডিক্সে ফোঁড়া হতে পারে (অ্যাপেনডিকুলার অ্যাবসেস) বা চাকার মতো তৈরি হতে পারে (অ্যাপেনডিকুলার লাম্প)রোগীর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং এই অঙ্গগুলোর কার্যক্ষমতা লোপ পেয়ে রোগী শকে চলে যেতে পারে।

চিকিৎসা

অ্যাপেনডিক্সের প্রদাহ একবার হলে তা বারবার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের চিকিৎসায় তাই অপারেশনই করা হয়। প্রদাহের মাত্রা ও রোগীর শারীরিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে চিকিৎসক অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনের নাম অ্যাপেন্ডেকটমি। ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে পেটের নিচের অংশে ছোট ছিদ্র করে এই অপারেশন করা হয়। জটিলতাপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে তলপেট কেটে এই অপারেশন করা হয়।

অপারেশনের পর

 বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা

 চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করা  বারবার অল্প অল্প করে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া  ভিটামিন সি যুক্ত খাবার গ্রহণ করা  ভারী কিছু বহন না করা  সাবধানে হাঁটা-চলা করা এবং খেলাধুলা ও ভারী কাজ এড়িয়ে চলা  চিকিৎসকের নির্দেশিত ওষুধ নিয়মমাফিক সেবন করা।