ঢাকায় এলাকাভিত্তিক চলবে ব্যাটারিচালিত রিকশা : প্রধানমন্ত্রী

জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা না করে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বিধিমালা করে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের (রেগুলেট) জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা ভাগ করে দিতে বলেছেন। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হয় মন্ত্রিসভার বৈঠক। পরে বিকেলে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন।

এর আগে গত ১৫ মে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম বৈঠকে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে অভিযানে নামে পুলিশ। ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের প্রতিবাদে গত রবিবার রাজধানীর মিরপুরে দিনভর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন চালকরা। গতকালও রাজধানীর কয়েকটি জায়গায় রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন তারা।

এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে। তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, তাদের জীবিকার বিষয়টি উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। তাদের জীবিকার বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে। একটি বিধিমালার মাধ্যমে এটি রেগুলেট করতে হবে এবং তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের নির্দিষ্ট এলাকা ভাগ করে দিতে হবে। এর বাইরে তারা যাবেন না। তবে কোনো অবস্থাতেই যেন মহাসড়ক বা বড় সড়কে না যান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সড়ক বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটি (ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত) প্রধানমন্ত্রী জানতেন না। তিনি বলেছেন তার নজরে আনা হয়নি। জীবিকার ব্যবস্থা না করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়াটা যৌক্তিক মনে করেননি প্রধানমন্ত্রী।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ব্যাটারিচালিত রিকশার যন্ত্রের সঙ্গে উপযুক্ত কাঠামো বা মডেল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীকে কঠোরভাবে বাজার তদারকির নির্দেশ : কিছু কিছু পণ্যের সরবরাহ ঠিক আছে। আবার সংকট না থাকা সত্ত্বেও বাজারে কৃত্রিমভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীকে কঠোরভাবে বাজার মনিটরিংয়ের (তদারকি) নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি। এ ছাড়া ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি পদক’ চালু, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের বেতনভাতা নির্ধারণসহ বেশ কিছু বিষয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে গতকালের সভায়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভা বৈঠকে নির্ধারিত ইস্যুর বাইরে দুটি বিষয় ছিল। তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীকে কঠোরভাবে বলেছেন, বাজার মনিটরিং যেন জোরালোভাবে হয় এবং ভালোভাবে নজর দিতে বলেছেন। বাজারে পণ্যের সরবরাহ বা সাপ্লাই যেন ঠিক থাকে, সে নির্দেশনাও দিয়েছেন।

সচিব বলেন, বাজারে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দোকানদাররা নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের বেশ অসুবিধা হচ্ছে। এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং সংস্থাগুলো শক্তভাবে বাজার মনিটরিং করতে বলেছেন।

বঙ্গবন্ধু শান্তি পদক : আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখাসহ বিভিন্ন অবদানের জন্য আগামী বছর থেকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তি পদক’ দেবে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক শান্তি পদক নীতিমালা-২০২৪’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রতি দুই বছর পরপর একজন ব্যক্তিকে এ পুরস্কার দেবে সরকার। পদকের জন্য মনোনীত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ডলার (প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা) দেওয়া হবে। এ ছাড়া ৫০ গ্রাম ওজনের ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণপদক ও সনদ দেওয়া হবে।

‘পদক দেওয়ার ক্ষেত্রে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে শান্তি প্রতিষ্ঠা, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি, যুদ্ধ বন্ধ ও বিরতিতে অবদান রেখেছেন এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। প্রতি বছর ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে পদকজয়ীর নাম ঘোষণা করবে সরকার। একই বছরের ২৩ মে অথবা এর আগে-পরের যেকোনো দিন পদকবিজয়ীর হাতে এ পদক তুলে দেওয়া হবে। পদক প্রদান অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশেই হবে।

সিইসির বেতন ১ লাখ ৫ হাজার : প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ও নির্বাচন কমিশনারদের (ইসি) ৯৫ হাজার টাকা করে মাসিক বেতন নির্ধারণ করে একটি আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মাসিক বেতন ছাড়াও সিইসি ও ইসিরা উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষের ভাতা, আবাসন সুবিধা, যানবাহন সুবিধা, টেলিফোন সুবিধা, কুক ভাতা ও সিকিউরিটি ভাতা পাবেন। নিয়ামক ভাতা পাবেন ৮ হাজার টাকা করে। চিকিৎসা সুবিধা আগে থেকে যেভাবে আছে সেটিই থাকবে।