টানা ছয় দিনের দরপতনের পর গতকাল মঙ্গলবার সকালে লেনদেনের শুরুতে বড় উল্লম্ফন দেখা দেয় পুঁজিবাজারে। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শুরুর পৌনে এক ঘণ্টায় অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে প্রধান মূল্যসূচকটি ৯১ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে বাজারের বিদ্যমান বাস্তবতায় অনেক বিনিয়োগকারী এ উল্লম্ফনকে বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন। ফলে বিক্রিচাপ বাড়তে থাকায় সূচকের উল্লম্ফন শেষ পর্যন্ত পতন দিয়ে শেষ হয়েছে। দিনশেষে বেশিরভাগ শেয়ার দর হারিয়ে সূচক উল্টো ২২ পয়েন্ট হারিয়েছে। এর ফলে দরপতন টানা সপ্তম দিনে গড়িয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কৃত্রিম দরবৃদ্ধিতে ভরসা পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, রিজার্ভ সংকট, সুদের হার বৃদ্ধি ও মূলধনী মুনাফায় করারোপের প্রস্তাবে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে ঠেকেছে। তাই গতকাল লেনদেনের শুরুতে যে দরবৃদ্ধির চিত্র দেখা গেছে, তাতে ভরসা না পেয়ে শেয়ার বিক্রির সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন অনেক বিনিয়োগকারী। এর ফলে লেনদেন শুরুর পৌনে এক ঘণ্টায় প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক যেখানে ৯১ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪৮৫ পয়েন্টে উঠেছিল, বিক্রির চাপে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর হারালে সেই সূচকই লেনদেনের শেষ মুহূর্তে ওই অবস্থান থেকে ১২১ পয়েন্ট বা আগের দিনের তুলনায় ৩০ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৩৬৩ পয়েন্টে নেমে যায়।
ব্রোকারেজ হাউজ-সংশ্লিষ্টরা জানান, পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের অনাস্থা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, মঙ্গলবারের লেনদেন তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে। শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউজের কর্মকর্তা জানান, এখন সবাই জানেন কীভাবে শেয়ারদর ওঠানামা করে। ফলে সকালে যখন শেয়ারদর বাড়ল, তখন অনেকে শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। এতে সূচকের এত বড় উত্থান থেকে শেষ পর্যন্ত পতন হয়েছে।
লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা শেষে বেলা ১১টায় ডিএসইতে ৩৭৬ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩১৪টির দর বেড়ে যায়। এ সময় দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল মাত্র ৩১টি এবং দর অপরিবর্তিত ছিল ৩১টির। তবে দুপুর আড়াইটায় লেনদেন শেষে দেখা যায়, এদিন লেনদেনে আসা ৩৯৩ শেয়ার ও ফান্ডের মধ্যে ২৩৫টি দর হারিয়েছে, দরবৃদ্ধি দিয়ে লেনদেন শেষ হয় ১০২টির এবং অপরিবর্তিত থাকে ৩৫টির দর। এ নিয়ে দরপতন টানা সপ্তম দিনে গড়াল।
দিনশেষে বেশিরভাগ শেয়ার ডিএসইএক্স ২২ পয়েন্ট হারিয়ে ৫৩৭১ পয়েন্টে নেমেছে। কেনাবেচা হয়েছে ৫৯১ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার, যা আগের দিনের তুলনায় ৩০ কোটি টাকা বেশি।
ভুল নির্দেশনা এসইসির : এদিকে শেয়ার কিনে পতন আটকে দিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিনিয়োগ সংস্থা আইসিবির ব্রোকারেজ হাউজকে ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত নন-মার্জিন সুবিধা দিতে গত সোমবার সন্ধ্যায় তড়িগড়ি করে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতি নির্দেশনা জারি করেছিল এসইসি। অবশ্য এজন্য ব্যাংক অথবা করপোরেট গ্যারান্টি দিতে বলা হয়। তবে নির্দেশনার ভুলের কারণে এ সুযোগ নিতে পারেনি ব্রোকারেজ হাউজটি।
আইসিবি সিকিউরিটিজের সিইও মফিজুর রহমান বলেছেন, অন্য সব ব্রোকারেজ হাউজের মতো আইসিবি সিকিউরিটিজ ১০ কোটি টাকার নন-মার্জিন লেনদেন সুবিধা পায়। এর বাইরে ৫০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে ডিএসইতে লেনদেন করি। আরও ৫০ কোটি টাকার নন-মার্জিন সুবিধা পেলে ভালো হতো। তবে এর জন্য যদি ব্যাংক বা করপোরেট গ্যারান্টিই দিতে হয়, তবে এসইসির নির্দেশনার প্রয়োজন ছিল না। কোনো গ্যাারান্টি ছাড়াই অতিরিক্ত নন-মার্জিন পেলে ভালো হতো।
স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা জানান, এ নির্দেশনার ফলে ব্রোকারেজ হাউজটি যে গ্যারান্টি ছাড়া ১০ কোটি টাকার নন-মার্জিন ট্রেড সুবিধা পেত, তাও বাতিল হয়েছে। না বুঝে নির্দেশনা জারির ফলে উল্টো ক্ষতি করা হলো ব্রোকারেজ হাউজটির।