বৈশাখের শেষভাগে পদ্মায় জোয়ারের পানি আসতে না আসতেই মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নে ভাঙন শুরু হয়েছে। এর পর থেকে গত প্রায় দু সপ্তাহ ধরে এ ভাঙনে অনেক ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছেন পদ্মাপাড়ের কয়েক হাজার মানুষ।
জানা যায়, পদ্মার দীর্ঘদিনের ভাঙনে এ ইউনিয়নের ভৌগোলিক অবস্থানের প্রায় ৭০ শতাংশই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সম্প্রতি নদীতে জোয়ারের পানি আসতেই উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কোটকান্দি থেকে উপজেলার সীমান্তবর্তী মালুচী ঘাট এলাকায় তীব্র স্রোত এবং ঢেউয়ের আঘাতে নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এতে এ এলাকার বেশ কিছু ফসলের জমি ও ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়। আরও বেশি কিছু ঘরবাড়ি ও গাছপালা বিলীনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরেজমিনে ভাঙনকবলিত মালুচী এলাকায় দেখা যায়, জোয়ারের পানির তীব্র স্রোত আর ঢেউয়ের আঘাতে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী তীরবর্তী কৃষিজমির অনেক জায়গায় ৫০ ফিট দীর্ঘ ফাটল ধরেছে।
স্থানীয়রা জানান, এই এলাকায় নদী তীরবর্তী স্থানে গভীরতা বেশি হওয়ায় জোয়ারের পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে এ এলাকায় ইতিপূর্বে কখনো জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি বলে জানান তারা।
একই গ্রামের নোয়াব আলী বলেন, ‘কুশিয়ারচর পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত জিও ব্যাগ পড়েছে। আর শিবালয়ের শেষ সীমানা মালুচী ঘাটের পশ্চিমে জিও ব্যাগ পড়েছে। মাঝের এই জায়গাটুকুতে এখনো জিও ব্যাগ পড়েনি। এখনই ভাঙনরোধ করা না হলে পানি বাড়া শুরু হলে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে।’
কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী বনি ইসলাম রূপক বলেন, ‘কোটকান্দি ওসমানের বাড়ি থেকে মালুচী ঘাট পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কুশিয়ারচর বিল্লাল মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত জিও ব্যাগ পড়লেও তারপর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় এখনো কোনো জিও ব্যাগ পড়েনি। জোয়ারের পানি আসতে না আসতেই ওই এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া কোটকান্দি এলাকায় জিও ব্যাগসহ নদীতে ধসে পড়ছে। আমি বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, ‘হরিরামপুরের বেশিরভাগ এলাকায় জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। কাটকান্দি থেকে মালুচী ঘাট, কাঞ্চনপুর, আজিমনগর, সুতালড়ী ও লেছড়াগঞ্জ চরাঞ্চল এলাকায় আরও ২ হাজার ৭০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং-এর জন্য মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বরাবর বাজেটের জন্য প্রস্তাবনা প্রেরণ করেছেন। বাজেট অনুমোদন পেলেই আমরা এসব এলাকায় কাজ শুরু করতে পারব।’