সুদব্যয় বাড়ছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা

ধারাবাহিকভাবে দেশের বাজেটের আকার বাড়ছে। আগামী অর্থবছরের (২০২৪-২৫) বাজেটের আকার হবে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু ভর্তুকি, সুদ পরিশোধ ও সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাবদই ব্যয় ধরা হয়েছে বাজেটের ৪০ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের তুলনায় যা ২১ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা বেশি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকার বাজেট থেকে সরকার এই ৩ খাতে ৩ লাখ ১৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে পারে। এই বরাদ্দের মধ্যে সুদ বাবদ ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে সরকার সুদ পরিশোধে ৯৪ হাজার ৩৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যা প্রথমবারের মতো সংশোধিত বাজেটে ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আগামী অর্থবছরে ২৩ শতাংশ বরাদ্দ বাড়াতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বৃদ্ধি ও টাকার অবমূল্যায়ন আগামী বছরের বাজেট সংশোধনের সময় সুদ পরিশোধে বরাদ্দ বাড়িয়ে তুলতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে সুদ পরিশোধ হয়েছে ৬০ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। অভ্যন্তরীণ খাতে পেমেন্ট ১৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ২১৩ কোটি টাকায়। বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ বেড়েছে তিন গুণ। ট্রেজারি বন্ড বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিলের খরচ বাড়ছে। এতে সুদের ব্যয়ও বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুনে ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার ৮ থেকে ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

যদিও জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মতো সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বর্তমানে কম এবং সেগুলোর বিপরীতে সুদের হার কমেছে, অনেক স্কিমের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। এর অর্থ এই খাতে সরকারের ব্যয়ও বেড়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে সরকারের বরাদ্দ ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা।

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য যে পরিচালন ব্যয় হয়, সেটিকে মোটাদাগে ছয়টি খাতে ভাগ করা যায় প্রশাসন, সামাজিক অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, কৃষি, সুদ পরিশোধ ও অন্যান্য। চলতি অর্থবছরের বাজেটে আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রশাসনে বরাদ্দ বাড়লেও বাকি পাঁচ খাতে কমেছে।

বাজেট প্রক্ষেপণ অনুসারে সুদ পরিশোধে পরিচালন ব্যয়ের যে পরিমাণ অর্থ সরকারের ব্যয় করার কথা ছিল, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে তার চেয়ে বেশি খরচ হয়েছে। কৃষি ও অন্যান্য খাতেও বাজেট প্রক্ষেপণের তুলনায় কিছুটা বেশি হারে অর্থ ব্যয় হয়েছে।

সুদ পরিশোধে বাজেটে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়, বছর শেষে তার চেয়ে বেশি সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হয়। গত অর্থবছরের বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধে ৮০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সংশোধিত বাজেটে এটি বাড়িয়ে ৯০ হাজার ১৩ কোটি টাকা করা হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত আলোচ্য অর্থবছরে ৮৩ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করেছে সরকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, টাকার অবমূল্যায়নের পাশাপাশি সুদহার বৃদ্ধি ও ঋণের পরিমাণ বাড়ার কারণে চলতি হিসাববছরে সরকারের সুদ পরিশোধের ব্যয় আরও বাড়বে।