সিইসির ধারণার চেয়ে ৮ শতাংশ বেশি ভোট!

দেড় দশকের মধ্যে এবারের উপজেলা নির্বাচনে ভোট পড়ার হার সবচেয়ে কম। গত মঙ্গলবার ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণে ১৫০ উপজেলায় ভোট পড়েছে ৩৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। যদিও ভোটের দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ধারণা দিয়েছিলেন যে ৩০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে। তবে মাঠপর্যায় থেকে পাঠানো ফলাফল একীভূত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, প্রথম ধাপের চেয়ে দেড় শতাংশ ভোট বেড়েছে।

ইসি সচিবালয়ের নির্বাচনী প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ১৫০টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোটার ছিল ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৪ জন। তাদের মধ্যে ভোট দেন ১ কোটি ২২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭২ জন। অর্থাৎ ভোট পড়ে ৩৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর আগে গত ৮ মে প্রথম ধাপে ১৩৯টি উপজেলার নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ।

গত মঙ্গলবার ভোটের দিন প্রথম চার ঘণ্টার ভোটের চিত্র নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছিলেন ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম। তিনি বলেন, প্রথম চার ঘণ্টা অর্থাৎ সকাল ৮ থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গড়ে ১৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। ইসির তথ্য অনুযায়ী শেষ ৪ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ২০ শতাংশের বেশি।

যদিও ভোটগ্রহণ শেষে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল গণমাধ্যমকে ধারণা করে বলেছিলেন, দ্বিতীয় ধাপে ৩০ শতাংশের মতো ভোট পড়তে পারে।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় ৭৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলায় ১৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ভোট হয়েছে ১২৯টি উপজেলায়। এতে ভোট পড়ে ৩৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হয়েছে ২৩টিতে, ভোট পড়ে ৩২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

দ্বিতীয় ধাপে চেয়ারম্যান পদে সাত উপজেলায় একক প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে দুই উপজেলায় তিনটি পদেই প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম বলেন, তিনটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদের একক প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ায় ওই তিনটির ফলাফল ইসি থেকে সমন্বয় করা হয়নি।

বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর বর্জনের মুখে ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচন চলছে। ৪৯৫ উপজেলার মধ্যে নির্বাচন উপযোগী ৪৮৫ উপজেলায় চার ধাপে ভোট হচ্ছে এবার। নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে একগুচ্ছ বিধি সংশোধন করে ইসি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পথ সহজ করতে ভোটার স্বাক্ষর জমাদান বিধান বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে ভোটার টানতে দলীয় প্রতীক না দিয়ে প্রার্থিতা উন্মুক্ত করে দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবুও মিলছে না কাক্সিক্ষতসংখ্যক ভোটার।

প্রথম ধাপের নির্বাচন হয় গত ৮ মে। ওইদিন ভোট পড়েছিল মাত্র ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ। প্রথম ধাপে ভোটার কম হওয়ার জন্য বৃষ্টি ও ধান কাটার মৌসুমকে দায়ী করেছিলেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল।

ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় বেশ সমালোচনায় পড়তে হয় নির্বাচন কমিশনকে। উপজেলা নির্বাচনের ভোটের খরা কাটাতে দ্বিতীয় দফায় নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি।

সিইসির মতে, কম ভোটার উপস্থিতির অন্যতম কারণ হলো একটা বড় রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ভোট বর্জন করেছে। তারা জনগণকে ভোটদানে নিরুৎসাহিত করেছে। তবে ভোট নিয়ে কোনো সংকট নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সংকটটা রাজনীতিতে। আমি মনে করি, রাজনীতিতে যে সংকটটা রয়েছে, অবশ্যই একটা সময় কাটিয়ে ওঠা যাবে। সুস্থধারায় সামগ্রিক রাজনীতি প্রবাহিত হবে, ভোটাররা উৎসাহিত হবেন।’