ঠাকুরগাঁওয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক নারীকে রাতভর নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। তার মরদেহ পাওয়া গেছে পাড়ার একটি লিচুবাগানে গাছে ঝোলানো অবস্থায়।
গতকাল বুধবার সকালে শহরের পরিষদপাড়ার ওই বাগান থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম দায়ন ঋষি (৪০)। তিনি একই পাড়ার বিশু ঋষির স্ত্রী। দায়ন ছিলেন পেশায় শ্রমিক।
দায়নের স্বজনরা জানান, পরিষদপাড়ার আমজাদ হোসেন লিটন সোমবার রাতে তার বাড়ি থেকে ৩ লাখ টাকা চুরির অভিযোগ আনেন দায়নের ছেলে রাজন ঋষির (১৩) বিরুদ্ধে। তার লোকজন মঙ্গলবার সকালে রাজনকে ধরে নিয়ে যায় এবং পাশের বড়বাড়ি এলাকায় নিয়ে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে বেদম মারধর করে। নির্যাতন করে একপর্যায়ে তার কাছ থেকে চুরি করার স্বীকারোক্তি আদায় করে। পরে রাজনের মা দায়ন ঋষিকে তুলে নিয়ে আসে আমজাদের লোকজন। এরপর রাতে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। গতকাল সকালে স্থানীয় লোকজন একটি লিচুবাগানে দায়নের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে রাজন ঋষি বলেছে, যারা তাকে নির্যাতন করেছে তারাই তার মাকে তুলে নিয়ে গেছে এবং মেরে ফেলেছে।
এ ঘটনার পর দুপুরে পরিষদপাড়ার আদিবাসীরা সদর থানা ঘেরাও করে প্রতিবাদ এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন লিটন তার বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন।
সরেজমিনে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, সীমানা দেয়াল দিয়ে ঘেরা বাড়িতে ঢুকতেই একটি গেট রয়েছে। ভেতর থেকে সেটা বন্ধ রাখা যায়। ভেতরে ঢুকলে কিছুটা ফাঁকা জায়গা রয়েছে। এরপরই বাসায় ঢোকার গেট। ভবনের দোতলার কাজ চলছে। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলেও তারা রাজি হয়নি।
শহরের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেত্রী জেসপিনা জানান, নিহত দায়েন ঋষির শরীরের বেশ কয়েকটি স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড দাবি করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করেছেন।
স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর দোলন জানান, বাড়িতে চুরি হয়েছে এটা শুনে আমজাদ হোসেনকে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুন সরকার সাংবাদিকদের বলেন, এটি হত্যা না আত্মহত্যা, তদন্ত করা হচ্ছে। যদি এটা হত্যাকান্ড হয়ে থাকে তাহলে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা ‘আদিবাসী পরিষদের’ সভাপতি জাকোব খালকোর অভিযোগ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। দায়েন ঋষিকে হত্যার পর গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্ত শাস্তি দাবি করেছেন।