সাগরে লঘুচাপ আজ রূপ নিতে পারে নিম্নচাপে

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী গতকাল বুধবার লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল। যথারীতি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে আজ বৃহস্পতিবার নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। তবে তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না, তা এখনই বলতে নারাজ আবহাওয়াবিদরা।

এদিকে লঘুচাপের কারণে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করা হলেও কোনো সংকেত দেখানো হয়নি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বুধবার সকাল ১০টার দিকে পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি ঘনীভূত হয়ে শক্তি সঞ্চয় করছে। বৃহস্পতিবার সকাল বা দুপুরের দিকে তা নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে।’

নিম্নচাপটি কি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে ওমর ফারুক বলেন, ‘এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে গতি-প্রকৃতি অনুযায়ী মনে হচ্ছে তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আর নিলে তা ভারতের ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ কিংবা মিয়ানমার উপকূলে আঘাত করতে পারে। আবার তা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকা দিয়েও প্রবাহিত হতে পারে।’

কবে নাগাদ তা উপকূলের দিকে আসতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগামী ২৫ থেকে ২৬ মে’র মধ্যে তা হয়তো উপকূলে আঘাত করতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে এত আগে কোনো সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া যায় না।’

এদিকে এপ্রিল ও মে মাস হলো ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম। এর মধ্যে মে মাস সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এপ্রিল মাস জুড়ে সাগরে কোনো লঘুচাপ সৃষ্টি হয়নি। মৌসুমি বায়ু প্রবেশের আগে সাধারণত সাগরে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়ে থাকে।

গত ৩০ বছরের আবহাওয়ার উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০০৭ সালের ১১ মে সৃষ্টি হয়ে ১৫ মে আঘাত করেছিল ঘূর্ণিঝড় ‘আকাশ’, ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল সৃষ্টি হয়ে ৩ মে আঘাত করেছিল ঘূর্ণিঝড় ‘নার্গিস’, ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’ আঘাত করেছিল, ২০১০ সালের ১৬ মে সৃষ্টি হয়ে ২১ মে আঘাত করেছিল ঘূর্ণিঝড় ‘লায়লা’, ২০১৩ সালের ৮ মে সৃষ্টি হয়ে ১৬ মে আঘাত করেছিল ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’, ২০১৬ সালে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানা’ ১৪ মে সৃষ্টি হয়ে ২২ মে আঘাত করেছিল, ২০১৭ সালে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ ২৫ মে সৃষ্টি হয়ে ৩১ মে আঘাত করেছিল, এ ছাড়া ২০১৯ সালে ‘ফনি’ ৫ মে এবং ২০২০ সালে আম্ফান ১৩ মে থেকে ২১ মে’র মধ্যে আঘাত করেছিল।