কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। গাজীপুরের শ্রীপুরে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীর দুই কর্মীর ওপর পরাজিত প্রার্থীর কর্মীরা হামলা চালিয়েছে। নেত্রকোনার পূর্বধলায় বিজয় মিছিল থেকে মুরগির ফার্মে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে ডিম, লুট করা হয়েছে মুরগি। সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ভাঙচুর করা হয়েছে কমপক্ষে ২০টি বাড়ি। এসব সহিংসতায় আহত হয়েছে অন্তত ১৬ জন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
কিশোরগঞ্জ : তাড়াইল উপজেলায় প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন লাকীর নির্বাচনী অফিস ও চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেছে জহিরুল ইসলাম শাহীনের সমর্থকরা। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাইদা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে ৬-৭ জন আহত হয়েছে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।
একপক্ষের দাবি, প্রতিপক্ষের সমর্থকরা সড়ক অবরোধ করে নির্বাচনী কার্যক্রম চালানোর সময় তারা ওই রাস্তা ব্যবহার করতে পারছিলেন না।
শ্রীপুর (গাজীপুর) : গাজীপুরের শ্রীপুরে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় এক প্রার্থীর দুই কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীর দুই কর্মীর ওপর পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীরা এ হামলা চালান। গতকাল বুধবার দুপুরে তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি ছাতির বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরে স্বজনরা খবর পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। দুপুরেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদশর্ন করে। তবে বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আছে।
আহত ফরহাদ আহম্মেদ শেখ (৪৫) ওই গ্রামের মমতাজ উদ্দীন শেখের ছেলে। ফরহাদ তেলিহাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকের এজেন্ট। অপর আহত আবুল কালাম (৬৫) উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী জামিল হাসান দুর্জয়ের (ঘোড়া প্রতীক) কর্মী।
অভিযুক্তরা হলেন ওই গ্রামের তাজউদ্দীন, শুভ, শাহজাহান ও মফিজ উদ্দীন। তারা সবাই পরাজিত প্রার্থী আবদুল জলিলের (আনারস প্রতীক) কর্মী ছিলেন।
নেত্রকোনা : পূর্বধলায় জয়ী প্রার্থীর বিজয় মিছিল থেকে পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ফার্মের ডিম ভাঙচুর ও মুরগি লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে বিজয়ী প্রার্থী জুয়েল এর সমর্থকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে।
শ্রীপুর গ্রামের সাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আঙ্গুরা খাতুন জানান, পরাজিত প্রার্থী আসাদুজ্জামান নয়নের সমর্থক হওয়ায় বিজয়ী প্রার্থী এটিএম ফয়জুর সিরাজ জুয়েলের সমর্থকরা আনন্দ মিছিল নিয়ে এসে ফার্মের সব ডিম ভেঙে মুরগি লুট করে নিয়ে যায়। তারা তাদের প্রাণনাশেরও হুমকি দেয়।
সাতক্ষীরা : আশাশুনিতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় কমপক্ষে ২০টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন ৮ জন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত আটক করেছে ১৩ জনকে। গত মঙ্গলবার রাতে ও গতকাল বুধবার দিনে ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটে।