মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে শান্তি মিশনে না

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিতদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে মিশন থেকে তাদের বাদ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। তিনি বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োগপ্রাপ্তরা যেন সততা এবং দক্ষতার মানদ-ে উত্তীর্ণ হয় তা নিশ্চিতে জাতিসংঘ মহাসচিব প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র।

গত ২১ মে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীরা যখন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী’ শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে। এতে বলা হয়, নির্যাতন ও হত্যার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা।

ওই সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্রের কাছে জানতে চান, ডয়চে ভেলের সম্প্রতি প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী তথ্যচিত্রে বলা হয়েছে, নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডসহ চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। জাতিসংঘ মহাসচিব কি এ বিষয়ে অবগত?

জবাবে স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ‘হ্যাঁ, ডয়চে ভেলের তথ্যচিত্রটি আমরা দেখেছি। আপনি হয়তো জানেন যে, শান্তিরক্ষাবিষয়ক দপ্তরে আমাদের সহকর্মীরা এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা তথ্যচিত্রের নির্মাতাদের কাছে এ নিয়ে জাতিসংঘের তরফে বিবৃতি দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আবারও খুব সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে যেন দক্ষতা এবং সততার সর্বোচ্চ মানদ- নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ প্রতিশ্রুতির মধ্যে আরও রয়েছে, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং প্রতিশ্রুতি, জাতিসংঘের মানবাধিকার যাচাই পদ্ধতির অধীনে শান্তিরক্ষী নিয়োগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যথাযথ নিয়ম এবং কৌশল মেনে চলা।’

ওই সাংবাদিক আরেক প্রশ্নে জানতে চান, ‘জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে যেসব দেশ কর্মী পাঠাচ্ছে, তারাই ওই কর্মীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে। তবে যে দেশ শান্তিরক্ষা মিশনে লোক পাঠাবে সে দেশের সরকার যদি নিজেই চরম পর্যায়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী হয় তাহলে এ বাছাই প্রক্রিয়া কীভাবে স্বচ্ছ হবে?’

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা বাছাই প্রক্রিয়া তিন ধাপে সম্পন্ন করি। প্রথম পর্যায়ে বাছাই হয় ব্যক্তিগত মানদ-ে, পরের ধাপে বাছাই কাজটা করে স্বাগতিক দেশ এবং অন্য বাছাই প্রক্রিয়াটা হয় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের অফিস থেকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনাকে বলব, বিগত বছরগুলোতে আমরা খুব অল্পসংখ্যক দেশ থেকে শান্তিরক্ষীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। যখনই এ ধরনের ঘটনা ঘটে তখনই আমাদের শান্তিরক্ষা মিশনের সহকর্মীরা যাচাই-বাছাই নীতি, কর্মকৌশল অনুসারে শান্তিরক্ষী পাঠানো দেশের সঙ্গে কথা বলে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকেন। এ ধরনের ঘটনার (মানবাধিকার লঙ্ঘন) কারণে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া জড়িত কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল হতে পারে। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত হলে অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েন না-ও করা হতে পারে, এমনকি তাদের প্রত্যাহার করতে পারে জাতিসংঘ।’