বাবা-ছেলের ফলের বাগান

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউপির বাঙ্গড্ডা বালিকা মাদ্রাসার পাশে ছায়েদুর রহমান মজুমদার ও তার ছেলে হৃদয় হাছান জয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় ৮৫ শতাংশ জমিতে গড়ে উঠেছে লিচু, আম ও ড্রাগন ফলের বাগান। আর এ বাগান থেকে খরচ বাদ দিয়ে বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকার ফল বিক্রি করছেন তারা।

ছায়েদুর রহমান ২০০১ সাল থেকে বাগান গড়ে তুললেও ছেলে হৃদয় হাছান গত ৮ বছর ধরে লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবাকে ফল বাগানে সহযোগিতা করে আসছেন। হৃদয় স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দাখিল শ্রেণিতে পড়ছেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকা কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে কৃষির ওপর ডিপ্লোমা করছেন।

cumilla fruits bagan news pic-1

সরেজমিন দেখা যায়, লিচুর ভরা মৌসুমে একশ লিচু ৫শ টাকা করে বিক্রি করেন। ইতিমধ্যে ৮টি লিচু গাছ থেকে প্রায় ১ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করেছেন তারা। স্থানীয়ভাবে ক্রেতারা বাগানে এসে লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর লিচু বেশি ধরলেও ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে অনেক লিচু নষ্ট হয় বলে জানান ছায়েদুর রহমান। তবে নতুন ড্রাগন বাগানের ফল তোলা শুরু হলে এখান থেকে আরও প্রায় তিন লাখ টাকা লাভের আশা তাদের।

লিচু কিনতে আসা চারজানিয়া গ্রামের প্রবাসী রফিক বলেন, সরাসরি বাগান থেকে ফরমালিনমুক্ত লিচু কিনতে এসেছি। দুশ লিচু এক হাজার টাকায় কিনেছি। তাদের লিচুগুলো অনেক ভালো।

cumilla fruits bagan news pic-4

বাগান মালিক ছায়েদুর রহমান জানান, ভারতের গুজরাটে ২১ বছর ছিলেন। প্রথম তিন বছর আম, লিচু ও সফেদা বাগানে কাজ করেন। পরে ২০০১ সালে গ্রামের বাড়িতে এসে ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বাঙ্গড্ডা গ্রামে ৩৭ শতাংশ জমিতে ৮টি লিচু গাছ দিয়ে বাগান শুরু করেন। পরে শুরু হয় ড্রাগন ও আমের বাগান।

বর্তমানে তাদের বাগানে আম্রপালি, হাঁড়িভাঙ্গা, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, বারি-৪, গুটি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, কাউজাই আম গাছ রয়েছে। আম থেকে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ টাকা লাভ হয়।

এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, ছায়েদুর রহমান ও হৃদয় হাছান বাবা-ছেলে সফল ফলচাষি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করে আসছি। আগামীতে লিচু, আম এবং ড্রাগন ফল বাগানের পাশাপাশি মাল্টা বাগান করারও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

cumilla fruits bagan news pic-2