থাইরয়েডের সমস্যায় চোখ নিয়ে সচেতন থাকুন

থাইরয়েড সমস্যা একটি হরমোনজনিত সমস্যা হলেও আশ্চর্যজনকভাবে এটি চোখকে প্রভাবিত করতে পারে। চোখের ওপর থাইরয়েডের প্রভাব সম্পর্কে জানুন যাতে আপনার থাইরয়েড থাকলেও চোখ সুরক্ষা পায়।

থাইরয়েড রোগ কী?

এটি একটি অটো-ইমিউন থাইরয়েড হরমোন ডিজিজ। অটো-ইমিউন মানে হলো দেহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের দেহ থেকে ক্ষতিকর বস্তু নিঃসরণ করে যা তার করার কথা নয়। বরং উল্টোটা সত্যি। দেহ সবসময় ক্ষতিকর বস্তু দেহ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে। এক্ষেত্রে গলদেশে অবস্থিত কণ্ঠনালির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা থাইরয়েড গ্রন্থি অটো-ইমিউন প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিক হারে

থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ করে থাকে। যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ, বুক ধড়ফড় করা, বিরক্তি, ক্লান্তি, নাড়ির হার বৃদ্ধি, ওজন হ্রাসের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এটি হরমোন সমস্যা যা থায়রয়েড গ্রন্থিজাত। হরমোন সারা দেহে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিশেষ করে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ায় এর প্রভাব বেশ ক্ষতিকর। চোখের প্রতি এর একটি ব্যতিক্রমী প্রভাব কাজ করে থাকে। অটো-ইমিউন প্রক্রিয়ায়

থাইরয়েড গ্রন্থি যেমন আক্রান্ত হয় একই রকম আক্রান্ত হয় চোখের পেশি এবং চক্ষুকোটরের নরম কোষ বা ফাইব্রোব্লাস্ট। এক্ষেত্রে চোখের পেশি আক্রান্ত হওয়ায় চোখের মুভমেন্ট বা তাকানোতে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। ফলে চোখে ট্যারাভাব এবং ডিপ্লোপিয়া বা ডাবল ভিশনের মতো সমস্যার সৃষ্টি করে। এছাড়াও চক্ষুকোটরের পেশি ও অন্যান্য কোষে এক ধরনের সম্প্রসারণ দেখা দেয়। ফলে চোখ সামনের দিকে বেরিয়ে আসে, যাকে বলা হয় প্রোপ্টোসিস। থাইরয়েডজনিত এই প্রোপ্টোসিসকে বলা হয় এক্সফথ্যালমোস। এর প্রতিক্রিয়ায় চোখে দীর্ঘমেয়াদি লালচে ভাব এবং চোখের প্রেসার বেড়ে গ্লুকোমার মতো সমস্যা সৃষ্টি করে। গ্লুকোমা এবং প্রোপ্টোসিসের প্রভাবে অপ্টিক নার্ভ নামক স্নায়ু নষ্ট হয়ে যায়। এটিকে বলা হয় অপ্টিক এট্রোফি। এতে স্থায়ী অন্ধত্ব দেখা দিয়ে থাকে। এ ছাড়াও ড্রাই আই বা চোখে শুষ্ক ভাব দেখা দেয়। চোখের এতসব সমস্যার মূলে যে সমস্যা সেটি হলো থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন নিঃসরণে অস্বাভাবিকতা। ফলে এর থেকে নিষ্কৃতি পেতে হলে হরমোনের চিকিৎসা আগে প্রয়োজন। হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকলে অনেক সময় চোখের সমস্যা এমনিতেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। প্রয়োজনে চোখের শুষ্কতার জন্য আর্টিফিশিয়াল টিয়ার, চোখের প্রেসার নিয়ন্ত্রণের জন্য চোখে ড্রপ ব্যবহার করতে হবে। প্রোপ্টোসিস নিয়ন্ত্রণে সাধারণত স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হয়। স্টেরয়েড ওষুধ সেবনে প্রোপ্টোসিস নিয়ন্ত্রণে না এলে অপারেশনের মতো প্রক্রিয়ায় যেতে হতে পারে। থাইরয়েডজনিত চোখের সমস্যার চিকিৎসায় রোগীকে চক্ষু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপে থাকতে হবে। দেরিতে চিকিৎসা শুরু হলে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং সেক্ষেত্রে অন্ধত্ব অবধারিত হয়ে যায়। তাই

থাইরয়েড সমস্যায় হরমোন চিকিৎসার পাশাপাশি অবশ্যই একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের নিবিড় পর্যবেক্ষণ খুবই জরুরি।