সমাজসেবা কার্যালয়ে গিয়ে এনামুল জানলেন তিনি ‘মৃত’

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী চারজনকে মৃত দেখিয়ে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গোয়ালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ূমের বিরুদ্ধে। তাদের বাদ দিয়ে অন্য চারজনকে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এ ব্যাপারে ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শিলুয়া গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী মো. এনামুল হক গত রবিবার জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে এনামুল উল্লেখ করেন, ২০১৮ সাল থেকে তিনি নিয়মিত প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। ২০২৩ সালের শেষের দিকে কয়েক মাস ভাতা না পাওয়ায় ভাতার বই নিয়ে গত জানুয়ারি মাসে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে ভাতা না পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে কার্যালয় থেকে বলা হয়, এ কার্ডের মালিক মারা গেছেন, তিনি আর ভাতা পাবেন না। এনামুল তখন বলেন, এ কার্ডের মালিক আমি স্বয়ং আপনার সামনে জীবিত দাঁড়িয়ে, আমি মারা গেলাম কীভাবে? তখন বলা হয়েছে আপনি ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করুন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ২৫ অক্টোবর গোয়ালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ূমের সভাপতিত্বে ইউনিয়ন পরিষদে বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা এবং অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বয়স্ক ভাতা ১৩৮ জন, বিধবা ২২ জন ও অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা ১০ জনসহ ১৭০ জন মৃত ভাতাভোগী পাওয়া যাওয়ায় তাদের স্থলে নতুন ভাতাভোগীর নাম দিয়ে তালিকা তৈরি করে তা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এ ছাড়া গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন ও চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ূম স্বাক্ষরিত ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রে এনামুল হক ৫ এপ্রিল ২০২১ সালে মৃত্যুবরণ করেন বলে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এনামুলের ডাক নাম ও আসল নাম নিয়ে জটিলতা ছিল। তাছাড়া কয়েক মাস আগে তিনি ঢাকায় থাকায় এই ভুলটা হয়েছে।’

এ বিষয়ে গোয়ালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ূম বলেন, ‘সমাজসেবা কার্যালয় থেকে ব্যক্তিদের নামে মৃত্যুসনদ দেওয়ার জন্য আমাদের বলা হলে আমরা তা দিই। পরে যখন জানতে পারলাম উনারা জীবিত। তখন নতুন করে প্রত্যয়নপত্র দিয়ে তাদের ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অনুরোধ করা হয়।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘অনেক সময় কিছু মেম্বার অবৈধ লেনদেন করে জীবিত মানুষকে মৃত দেখিয়ে বাদ দিয়ে অন্যকে তালিকাভুক্ত করেন। এখানে সমাজসেবা কার্যালয়ের কোনো দায় নেই। যাদের মৃত দেখিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তাদের আবার ভাতার আওতাভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।’

জেলা প্রশাসক উর্মি বিনতে সালাম বলেন, ‘একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’