লক্ষ্মীপুরে ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঘর বাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এখনো উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পুরো জেলায় দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে করে জনদুর্ভোগ চরমে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ২৮৪টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং কমলনগর ও রামগতি ব্যাপক ফসলি জমি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও রামগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ চাঙ্গিরগাঁও গ্রামে ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে বসতঘর চাপা পড়ে নিস্পু (৭) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শিশুটির নানি হোসনেয়ারা বেগম (৬৫)। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রামগঞ্জ থানার ওসি মো. সোলাইমান।
এদিকে জোয়ারের পানিতে জেলার কমলনগর নাসিরগঞ্জ এলাকায় ১০০ মিটারেরও বেশি বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে করে এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার, এ ছাড়া অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ ফুট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় উপকূলীয় এলাকা। ৬৫ থেকে ৭০ হাজার মানুষ জোয়ারের পানিবন্দী হয়ে পড়ে ।
তীব্র বাতাসে জেলার কমলনগরের মতির হাট, লুধুয়া, কালকিনি, সাহেবের হাট ও রামগতির চরগাজীসহ বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (লূধুয়া কওমি মাদ্রাসা) বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে দুই শতাধিক গাছপালা ভেঙে উপড়ে গেছে। এসব গাছ বিদ্যুতের খুঁটি ও মানুষের ঘরবাড়িতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে করে জেলার অধিকাংশ স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান বলেন, ঘর চাপা পড়ে এক শিশু মারা গেছে। জেলায়র ২৮৪টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে এমন তথ্যটি সঠিক নয় বলে জানান তিনি।