কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক পোলট্রি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে দুবাই পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মহিম উদ্দিন (৪৪) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই ব্যবসায়ীকে ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা ঋণ উত্তোলন করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এসব টাকা হাতিয়ে নেয় সে। অভিযুক্ত মহিম উদ্দিন উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামের মফিজুর রহমান সরকারের ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মনসুর হায়দার ভূঁইয়া স্বপন গত রবিবার জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর মহিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে তিনি মহিমের বিরুদ্ধে আদালতে একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের চিলপাড়া এলাকার মো. ইউসুফ ভূঁইয়ার ছেলে মনসুর হায়দার ভূঁইয়া স্বপন নিজ বাড়ির পাশে পোলট্রি ফার্ম ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাংকে ঋণ গ্রহণের জন্য খোঁজখবর নেওয়ার একপর্যায়ে চিলপাড়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাসকারী মহিম উদ্দিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। মহিম উদ্দিন নিজেকে সোনালী ব্যাংক, চৌদ্দগ্রাম শাখার কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে স্বপন ভূঁইয়াকে ৬০ লাখ টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়ার আশ^াস প্রদান করেন। এ সময় মহিম উদ্দিন তাকে বলেন, খুবই অল্প সময়ের মধ্যে ঋণ প্রসেসিং হয়ে যাবে, কিন্তু প্রসেসিং বাবদ প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ হবে এবং এ টাকাগুলো আগেই খরচ করতে হবে। ওই ব্যবসায়ী প্রলোভনে পড়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারির পর থেকে বিভিন্ন সময় বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৩০০ টাকা প্রদান করেন। এরপর নগদ আরও ৫ লাখ টাকা দেন। সর্বশেষ গত ১ এপ্রিল ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ঋণ পাস হয়ে গেছে বলে ব্যবসায়ীর ইমুতে অগোছালো লেখা একটি চেক পাঠিয়ে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৫ লাখ টাকা নিয়ে যান। সব মিলে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোট ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৩০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর উধাও হয়ে যান মহিম। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ করাসহ স্বপন ভূঁইয়ার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে স্বপন ভূঁইয়া ব্যাংকে গিয়ে চেকটি ভুয়া এবং মহিম উদ্দিন নামে তাদের কোনো কর্মকর্তা নেই বলে জানতে পারেন। পরবর্তী সময় মহিম উদ্দিন, তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে বহুবার যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় আদালতে মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মনসুর হায়দার ভূঁইয়া স্বপন বলেন, ‘অনেকের কাছ থেকে টাকা ধার করে এনে তাকে দিয়েছিলাম। আমি প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।’
অভিযুক্ত মহিম উদ্দিন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি দুবাই থাকি। স্বপন ভূঁইয়ার কাছে আমিই টাকা পাই। আমার কাছে তার দেওয়া স্ট্যাম্প ও চেক রয়েছে। এখন সে আমার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছে।’
আদালতে দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক সুজন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘মামলাটির তদন্ত চলছে। শীঘ্রই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।’