দক্ষিণ চট্টগ্রামের চার উপজেলায় নতুন চেয়ারম্যান

নতুন চেয়ারম্যান পেয়েছেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের চার উপজেলার মানুষ। বুধবার অনুষ্ঠিত তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ ভোটযুদ্ধে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন তাঁরা।

নব নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা হলেন- আনোয়ারা উপজেলায় কাজী মোজাম্মেল হক, পটিয়ায় দিদারুল আলম, চন্দনাইশে জসিম উদ্দিন ও বোয়ালখালিতে জাহেদুল হক। বুধবার রাতে ভোট গণনা শেষে রিটার্নিং অফিসার তাদের বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।

রিটার্নিং অফিসার ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, আনোয়ারা উপজেলায় ৫৮ হাজার ৮৩০ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আনারস প্রতীকের প্রার্থী কাজী মোজাম্মেল হক। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত-কলম প্রতীকের প্রার্থী তৌহিদুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮০৭ ভোট। ৩১ হাজার ১৫৭ ভোট পেয়ে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন চশমা প্রতীকের প্রার্থী এম এ মান্নান মান্না। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী টিয়া পাখি প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আবু জাফর পেয়েছেন ৩০ হাজার ৩৩৭ ভোট। মহিলা ভ্ইাস চেয়ারম্যান পদে ৪৫ হাজার ৯৪০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন হাঁস প্রতীকের প্রার্থী চুমকি চৌধুরী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কলস প্রতীকের প্রার্থী পারভিন আকতার পেয়েছেন ২৫ হাজার ৮২ ভোট। এ উপজেলায় ৪২ দশমকি ২৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।

বোয়ালখালী উপজেলায় ৩০ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন হেলিকপ্টার প্রতীকের প্রার্থী আলহাজ জাহেদুল হক। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ শফিক  পেয়েছেন ১৯ হাজার ১১০ ভোট। ৩১ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন টিউবওয়েল প্রতীকের প্রার্থী মীর নওশাদ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম উদ্দিন পেয়েছেন ১৪ হাজার ৪৫৮ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩১ হাজার ৩৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন উম্মে সালমা। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শামীম আরা বেগম পেয়েছেন ২৮ হাজার ৪০১ ভোট।

চন্দনাইশ উপজেলায় ৩৮ হাজার ৩৯ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মোটর সাইকেল প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিন আহমেদ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবু আহমেদ জুনু ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২২ হাজার ৭৪ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৪ হাজার ৭১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বৈদ্যুতিক বাল্ব প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা সোলাইমান ফারুকী। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রুপম দেব উড়োজাহাজ নিয়ে পেয়েছেন ৮ হাজার ২১৯ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে খালেদা আকতার চৌধুরী একক প্রার্থী হিসাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

পটিয়া উপজেলায় ৫৬ হাজার ৫৪১ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. দিদারুল আলম। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের মো. হারুনুর রশিদ পেয়েছেন ৪৬ হাজার ১৪২ ভোট। ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৭টি ফলাফলে ২৩ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে উড়োজাহাজ প্রতীকের প্রার্থী আবু ছালেহ মুহাম্মদ শাহরিয়ার এগিয়ে রয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বই প্রতীকের এমদাদুল হাসান পেয়েছেন ২৩ হাজার ৭৩ ভোট। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১২৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে কলস প্রতীকের প্রার্থী মাজেদা বেগম ২৪ হাজার ৮৯৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রজাপতি প্রতীকের সাজেদা বেগম পেয়েছেন ২৪ হাজার ৭৩১ ভোট। ভোট চলাকালে ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনায় পূর্ব পিংগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। ৩১ দশমিক ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে এই উপজেলায়।

এর আগে সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এই চার উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট চলাকালে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে বিগত কয়েকটি সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের তুলনায় এবারের উপজেলা নির্বাচনে ভোটারদের স্বতস্ফুর্ত উপস্থিতি অনেক বেশি দেখা যায়। ভোটকেন্দ্রগুলোতে দেখা যায় ভোটের মেজাজ।

বেলা বাড়তেই ক্রমশ ভোটারদের আনাগোনা বাড়ে। সকাল ১০টার পর থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়। এ সময় আনোয়ারা, পটিয়া, চন্দনাইশ ও বোয়ালখালি চার উপজেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের কেন্দ্র দখলের চেষ্টা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কিন্তু নির্বাচনী আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি বেশি দূর এগুতে পারেনি কোথাও। তবে সর্বত্র নির্বাচনী উত্তেজনা ছিল দিনভর।

ভোট শেষ হবার পর প্রত্যেক কেন্দ্র থেকেই দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোট গণনা শেষে প্রার্থীর এজেন্টদের ভোটের ফলাফল দিয়ে দেন। আবার প্রতিটি উপজেলায় কেন্দ্রওয়ারী ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ সময় সেখানে বিভিন্ন প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের ব্যাপক ভিড় জমে। ফলাফল ঘোষণা শেষ হতে কোথাও কোথাও রাত ১০টা-সাড়ে ১০টা বেজে যায়। এরপর শুরু হয় বিজয়ী প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের উল্লাস ও খন্ড খন্ড বিজয় মিছিল।